ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একতরফা বাণিজ্য সুবিধা বা অনুদানের পরিবর্তে এখন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমতাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ওয়াশিংটন।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
রাজধানীর শেরাটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র একা চলবে-এমন নয়। বরং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় তার দেশ।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের গতিশীল বেসরকারি খাত এবং বিপুল তরুণ জনশক্তির কথা উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি মোকাবিলা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আরও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাত ছাড়াও প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী ও বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মাহদি আমিন আরও বলেন, মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ, কর প্রণোদনা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সংগঠনটি অবদান রেখেছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যামচ্যাম দীর্ঘদিন ধরে প্রথম যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া অ্যামচ্যামের নির্বাহী কমিটিতে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক উপদেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
অ্যামচ্যামের সহসভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আহমাদ বলেন, একটি প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যতমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের সংগঠন দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব, বন্ধুত্ব ও যৌথ সাফল্যের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments