নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে রবিবারের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দেওয়া হলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাঞ্চন চৌধুরী সুমন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা এইচ এম আল-আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময়-এর সিটি রিপোর্টার ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সহকারী মহাসচিব সরকার জামাল, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাংবাদিক ও কদমতলী সাংবাদিক ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে এম সোলায়মান, কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. ওয়াহিদুন নবী বিপ্লব, স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ, শ্যামপুর-কদমতলী-যাত্রাবাড়ী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এইচ এম হাকিম, কদমতলী থানা সাংবাদিক ক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আরটিভির সাংবাদিক রনি মজুমদার, সাবেক অর্থ সম্পাদক বাবলু শেখ, আয়েশা আক্তার, জসিম উদ্দিন, জাকির হোসেন, পনির আহম্মেদ, জাহিদ হাসান, ইভা রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য উদ্বেগজনক। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে কারও আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে সরাসরি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময়-এর সিটি রিপোর্টার ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিক দমনে ব্যবহৃত সব কালাকানুন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আজ শুধু সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি, গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেও। স্বাধীন গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কখনোই সত্যকে থামিয়ে রাখা যাবে না। আমরা অবিলম্বে শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
প্রধান অতিথি এইচ এম আল-আমিন বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক মামলা ও হয়রানি বন্ধ করে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো বা গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তারা ঘোষণা দেন, রবিবারের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দিলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখা এবং হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
































Recent Comments