বৃহস্পতিবার, ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদআগামী এক বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজার আরও গভীর, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হবে: বিএসইসি...
spot_img
spot_img

আগামী এক বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজার আরও গভীর, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজার আগামী এক বছরের মধ্যেই বর্তমান চেহারা থেকে অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তাঁর প্রত্যাশা, এ সময়ের মধ্যে বাজার আরও গভীর, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ন্যায্য হবে এবং ভালো ও বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তিনি জানান, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব রাসেল বক্তব্য দেন।

মাসুদ খান বলেন, আগামী এক বছরে দেশের শেয়ারবাজারকে বর্তমান অবস্থায় দেখা যাবে না—এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, বাজার আরও গভীর হবে এবং ভালো মানের অনেক কোম্পানি এতে যুক্ত হবে। এর ফলে বর্তমানে বাজারে যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে, সেগুলোও অনেকটা কমে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করতে হলে প্রতিদিনের সূচকের উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে স্বল্পমেয়াদি চিন্তা করলে চলবে না। বাজারে জোয়ার-ভাটা থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার প্রতিষ্ঠা করা।

ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সুফল

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এর অন্যতম কারণ ছিল মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান।

মাসুদ খান বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান স্থগিত হয়েছিল। কোনো দেশের শেয়ারবাজার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য কতটা আকর্ষণীয়, তা মূল্যায়নে এ সূচকের গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর মতে, ফ্লোর প্রাইসের মতো কৃত্রিম বা সাময়িক ব্যবস্থা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে।

তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আগামী মাস থেকে বাংলাদেশের জন্য মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্স পুনরায় চালু হতে পারে।

বেক্সিমকোর জিডিআর পুনরায় চালুর উদ্যোগ

বেক্সিমকোর বৈশ্বিক ডিপোজিটরি রিসিপ্ট (জিডিআর) পুনরায় চালুর বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড সভায় অনুমোদন দিয়ে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে স্থগিত থাকা বেক্সিমকোর জিডিআর পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জিডিআর ইস্যুর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ডিএসইকে আরও ক্ষমতাবান করার উদ্যোগ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মাসুদ খান। তিনি বলেন, ডিএসই একটি প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। তাই এক্সচেঞ্জটির পরিদর্শন কার্যক্রম, সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানি পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আরও ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির বিধিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ডিএসইর। এক্সচেঞ্জটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে বিএসইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

একই সঙ্গে ডিএসই ও বিএসইসির বাজার নজরদারি ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণে মানবীয় হস্তক্ষেপ কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে পরিবর্তন

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখনো ব্যাপকভাবে খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভর বলে উল্লেখ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা বিনিয়োগকারী। বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম।

তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ না বাড়ানো গেলে শেয়ারবাজারের বর্তমান কাঠামোতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

এ কারণে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগের কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাস্ট আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগে সরকারি গ্রিন বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও সেটিকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের একটি অংশ শেয়ারবাজারে এবং অন্য একটি অংশ করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে কাজ চলছে।

ভালো কোম্পানি আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি

শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোকে জরুরি বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি ভালো কোম্পানি রয়েছে। অনেক কোম্পানির আয়ের ওঠানামা বেশি হওয়ায় সেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

এই পরিস্থিতিতে ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাসুদ খান বলেন, প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগে। তাই সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালা নতুন করে সাজিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হবে।

আইপিওতে আসছে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’

আইপিও প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রচলিত স্ট্যাটুটরি অডিটের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো কোম্পানির আর্থিক বিবরণী সত্য ও ন্যায্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক বিবরণী যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুত পণ্য, বাকিতে বিক্রির পাওনা, সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন সম্পদ ও লেনদেন বাস্তবে রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

এ কারণে আইপিও আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকে বর্ধিত অডিটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ দায়িত্ব অডিটরদের ওপর দেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও প্রত্যয়ন সম্পন্ন হলে আইপিও আবেদন করার পর ডিএসইকে একই আর্থিক বিবরণী নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলতে হবে না। এতে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময়ও কমবে বলে আশা করছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

বহুজাতিক কোম্পানির জন্য হাইব্রিড ব্যবস্থা

আগামী সপ্তাহে ‘হাইব্রিড সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মাসুদ খান। এ ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানি একই সঙ্গে মূলধন সংগ্রহ এবং সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে এ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিএসইসি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে স্বপ্রণোদিতভাবে শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগের সুযোগও রয়েছে।

‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ

সিকিউরিটিজ আইনের ২০-এ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’র একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে।

মাসুদ খান আশা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে বাড়তি কর সুবিধার উদ্যোগ

স্থানীয় বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে কর সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বর্তমানে করহারে সুবিধা রয়েছে। এ সুবিধা আরও বাড়ানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তাঁর মতে, তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করহারে আরও যৌক্তিক পার্থক্য তৈরি করা গেলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।

করপোরেট বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমেছে ৮০ শতাংশ

দেশের করপোরেট বন্ড বাজারকে গতিশীল করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে করপোরেট বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, আগে মূল বোর্ডে করপোরেট বন্ড তালিকাভুক্তির ফি তুলনামূলক বেশি থাকায় কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কম ছিল। এখন ফি কমানো হয়েছে। ফলে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মূল বোর্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক করপোরেট বন্ড লেনদেন শুরু হতে পারে।

করপোরেট বন্ডের আকর্ষণীয় কুপন হারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, অনেক বন্ডে ‘এ’ ক্যাটাগরির ব্যাংকের ছয় মাসের এফডিআর হারের সঙ্গে প্রায় ৩ শতাংশ স্প্রেড রয়েছে। ফলে এসব বন্ডে প্রায় ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কুপন রেট পাওয়া যাচ্ছে।

ডেরিভেটিভ, ইটিএফ ও রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট চালুর পরিকল্পনা

শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর প্রক্রিয়া শিগগির শুরু হবে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কমোডিটি মার্কেটে গোল্ড, সিলভার ও ক্রুড পাম অয়েল নিয়ে কাজ চলছে।

অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ইনডেক্স ফিউচার চালুর জন্য আবেদন করেছে।

এ ছাড়া এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট বা আরইআইটি চালুর অনুমোদন আগে দেওয়া হলেও এসব পণ্য কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এক বছরের মধ্যে সিসিবিএল চালুর লক্ষ্য

দেশের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি।

মাসুদ খান বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সিসিবিএল চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি অবকাঠামো দিয়ে ডেরিভেটিভ লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় যেতে হবে।

ব্রোকারদের জন্য অভিন্ন সফটওয়্যার

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকার নিজস্ব ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই সব ব্রোকারের জন্য একটি অভিন্ন সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই সফটওয়্যারের সঙ্গে সিসিবিএলের এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন মার্জিন, আইপিও ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা

মার্জিন বিধিমালা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ক্যাপিটাল ইস্যু-সংক্রান্ত বিধিমালার পর আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হবে।

আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন আইপিও বিধিমালা প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালাতেও পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বলেন, সাধারণত একটি বিধিমালা পরিবর্তন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। তবে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন।

বহুজাতিক কোম্পানির লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানো সহজ হবে

বাংলাদেশে ব্যবসা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাসুদ খান বলেন, দ্বৈত কর পরিহারসংক্রান্ত ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি লভ্যাংশের অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারছিল না। এই সমস্যা সমাধানে এখন থেকে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিগুলোকে বারবার বিএসইসির কাছে আসতে হবে না।

তিনি জানান, লভ্যাংশের পুরো অর্থ পাওয়ার পর এক মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার হস্তান্তর সহজ হচ্ছে

‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির স্পন্সরদের শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিএসইসির পরিবর্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

আর্থিক শিক্ষায় বড় পরিসরে কার্যক্রম

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি।

মাসুদ খান জানান, আগামী এক বছরে আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রম কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গণশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এসব কার্যক্রমের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূচক বাড়ানো-কমানো বিএসইসির কাজ নয়

শেয়ারবাজারের প্রতিদিনের সূচক ওঠানামা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর দায়িত্ব বাজারের সূচক বাড়ানো বা কমানো নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায্য ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের সমালোচনা ও গালিগালাজ শুনতে হলেও তিনি কাজ থামাননি। কারণ তাঁর লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদি নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে হবে।

সাংবাদিকদের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান।

মাসুদ খানের ভাষায়, সাংবাদিকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘সাথী’। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া একটি শক্তিশালী, প্রাণবন্ত ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments