শুক্রবার, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিআমানত বীমা তহবিল পাঁচ বছরে দ্বিগুণ
spot_img
spot_img

আমানত বীমা তহবিল পাঁচ বছরে দ্বিগুণ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ব্যাংকে সঞ্চয় বাড়ার সঙ্গে আমানত বীমা তহবিলের আকার দ্রুত বাড়ছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে এ তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগের তুলনায় যা দ্বিগুণ। আর ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা বা ১৪.১১ শতাংশ। আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে সব ব্যাংক থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিয়ে এ তহবিল গঠিত হয়েছে। কোনো ব্যাংক বন্ধ বা দেউলিয়া হলে আমানতকারী এখান থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত বীমা তহবিলের ২০২২-২৩ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ব্যাংকের রেটিংয়ের ভিত্তিতে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮ থেকে ১০ পয়সা প্রিমিয়াম নিয়ে এ তহবিল গঠিত হয়। তহবিলের বেশির ভাগই সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। বর্তমান নিয়মে এখান থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক। ২০২৩ সালের আগে ১ লাখ এবং ২০০০ সালের আগে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার বিধান ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত আমানত বীমা তহবিলে মোট জমা ১৪ হাজার ৪৭২ কোটি টাকার মধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে ১৪ হাজার ২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সুদ আয় বাবদ গত অর্থবছর ৯৩০ কোটি টাকা এসেছে। বাকি ৮৬৭ কোটি টাকা এসেছে বিভিন্ন ব্যাংকের জমা দেওয়া প্রিমিয়াম থেকে। এ তহবিল থেকে গত অর্থবছর বিভিন্ন খাতে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মূলত নিরীক্ষা ফি, প্রিমিয়াম এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের (আইএডিআই) বার্ষিক সদস্য ফি বাবদ এ টাকা খরচ করা হয়েছে।

পাঁচ বছর আগে ২০১৮ সালের জুন শেষে আমানত বীমা তহবিলে মোট জমা ছিল ৭ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আর দশ বছর আগে জমার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭১৬ কোটি এবং এক যুগ আগে ছিল ১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মানে ১০ বছরে তহবিলের আকার বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ। আর এক যুগে বেড়েছে আট গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার নজির নেই। যত খারাপ অবস্থাই হোক, নানা উপায়ে টিকিয়ে রাখা হয়। যে কারণে এই তহবিল থেকে আজ পর্যন্ত কাউকে কোনো টাকা দেওয়ার দরকার হয়নি। আবার ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিনিয়ত আমানতের পরিমাণও বাড়ছে। যে কারণে এ তহবিলের আকার এত দ্রুত বাড়ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংক একীভূত হলে ওই আমানতকারীর দায় নেবে সবল ব্যাংক। এ তহবিলের সঙ্গে একীভূত হওয়া ব্যাংকের আমানত ফেরতের কোনো সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আর গত জুন পর্যন্ত ছিল ১৪ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। প্রতিটি ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে আমানত বীমা তহবিলের জন্য প্রতি ৬ মাস অন্তর প্রিমিয়াম কাটা হয়। একটি সময় সব ব্যাংকের প্রতি ১০০ টাকা আমানতে ৭ পয়সা প্রিমিয়াম নেওয়া হতো। তবে ২০১৩ সালে ক্যামেলস রেটিংয়ের মানের সঙ্গে প্রিমিয়ামের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। সে আলোকে সবচেয়ে ভালো মানের ক্যামেলস রেটিংয়ের ব্যাংকের ১০০ টাকা আমানতে ৮ পয়সা প্রিমিয়াম নেওয়া হয়। আরলি ওয়ার্নিং তথা মধ্যম মানের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের ১০০ টাকার বিপরীতে ৯ পয়সা এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের ১০০ টাকায় ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম কাটা হয়।

বিদ্যমান নিয়মে দেউলিয়া বা বন্ধ হওয়া ব্যাংকের আমানতকারীকে এ তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরতের পর বাকি টাকা দেওয়া হবে অবসায়িত ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি থেকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও হয়তো দেউলিয়া হওয়া ব্যাংকে ২ লাখ বা এর কম পরিমাণ অর্থ জমা আছে। তিনি জমাকৃত পুরো অর্থ এ তহবিল থেকে ফেরত পাবেন। জমার পরিমাণ ২ লাখের বেশি– সেটা হতে পারে ৫ কোটি, ১০ কোটি, ১০০ কোটি বা যে কোনো অঙ্কের, তিনিও এখান থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাবেন। এ জন্য ব্যাংক বন্ধ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আর ১৮০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments