নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের আরগন ডেনিমস লিমিটেডের মুনাফা বাড়লেও বাড়েনি ডিভিডেন্ড। এনিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। শুধু কি তাই? ডিভিডেন্ড না বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি অফিস ভাড়া বাড়িয়েছে তিন হাজার শতাংশের বেশি, যা নিয়ে রীতিমতো হতবম্ভ হয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) প্রায় ১৩ কোটি টাকা বেশি প্রফিট বা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ ডিভিডেন্ডে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত বছরের মতই সদ্য বিদায়ী বছরে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড (নগদ লভ্যাংশ) ঘোষণা করেছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, মুনাফা বেশি হলে সাধারণত কোম্পানি ডিভিডেন্ড বেশি দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আরগন ডেনিমস এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অতিরিক্ত মুনাফা করা শর্তেও প্রতিষ্ঠানটি ডিভিডেন্ড বেশি দেয়নি।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত বছর আরগন ডেনিমসের মুনাফা হয়েছিল ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৩ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৫৮ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৫ টাকা বা ১২২ শতাংশ।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ১২২ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি শর্তেও কোম্পানিটি ঘোষিত ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাড়ায়নি। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি যে বিনিয়োগকারী বান্ধব নয় সেটিও প্রকাশ পেয়েছে, জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মুনাফা বেশি হওয়া শর্তেও আরগন ডেনিমস সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি খাতে বাজেট কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কোম্পানিটি থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তথ্য বিশ্লেষণে এই তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সিএসআর খাতে আরগন ডেনিমস ব্যয় করেছিল ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটি এই খাতে ব্যয় কমিয়েছে ২৩ লাখ ৪ হাজার ৯৭০ টাকা বা ৪৭ শতাংশ।

এদিকে সিএসআর খাতে ব্যয় কমালেও এক বছরের ব্যবধানে অফিস ভাড়া বাবদ কোম্পানিটি ব্যয় বাড়িয়েছে ৩ হাজার শতাংশের বেশি, যা নিয়ে রীতিমতো চমকে উঠেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরেও কোম্পানিটি অফিস ভাড়া বাবদ ব্যয় করেছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৫ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩৭ টাকা। বছরের ব্যবধানে আরগন ডেনিমসের অফিস ভাড়া বাবদ ব্যয় বেড়েছে ৯৫ লাখ ১০ হাজার ৭৭২ টাকা বা ৩ হাজার ২৯৬ শতাংশ।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, কোম্পানিটির এই হিসাবে নিশ্চয় গড়মিল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষক ও অর্থ কর্মকর্তা ঠিকভাবে হিসাব মিলাতে পারেননি।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই আরগন ডেনিমস তারল্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পার শেয়ার (এনওসিএফপিএস) কমেছে ৭৫ শতাংশ।
জানা গেছে, গত বছর এনওসিএফপিএস ছিল ৩ টাকা ৬৯ পয়সা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৯৪ টাকা। বছরের ব্যবধানে এনওসিএফপিএস কমেছে ২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ এনওসিএফপিএস ঋণাত্বক পর্যায়ে যেতে আর বেশি দূরে নেই।

এসব ব্যাপারে জানতে আরগন ডেনিমসের কোম্পানি সচিব মো. মনিরুজ্জামানা ভূঁইয়াকে ফোন করা হলে তিনি ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমের এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনাকে কেন প্রশ্নের উত্তর দেবো? আপনাকে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। আপনার যা মোন চায় লেখেন।
পরবর্তীতে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার উল আলম চৌধুরী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমার সামনেতো একাউন্স নেই। তাই ঠিকভাবে আমি বলতে পারবো না। আপনার যেভাবে মোন চায় নিউজ করেন।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আরগন ডেনিমসের কর্মকান্ডে আমরা হতাশ। প্রতিষ্ঠানটি প্রফিট বেশি করা শর্তেও ডিভিডেন্ড বাড়ায়নি। এটা ঠিক করেনি কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠানটি আমাদেরকে ঠকিয়েছে।
উল্লেখ্য, আরগন ডেনিমসের পরিশোধিত মূলধন ১৩৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৬৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ





















Recent Comments