ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চিনি চেনা শত্রু। কিন্তু চিনি একা শত্রু নয়; রক্তে শর্করা বৃদ্ধির নেপথ্যে শুধু মিষ্টি খাবারই থাকে না, থাকে প্রতিদিনের কিছু খাদ্যাভ্যাসও। ডায়াবেটিস হলে জীবনযাপনে বদলের দরকার হয়। কিন্তু ডায়াবেটিস না হলেও তার দরকার হতে পারে। কারণ শুধু ডায়াবেটিস নয়, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মূলে থাকতে পারে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’।
শরীরে ইনসুলিন হরমোন কাজ করা বন্ধ করে দিলে শুধু ডায়াবেটিস হয়— এমনটি নয়। এর অন্য প্রভাবও পড়তে পারে শরীরে। বেড়ে যেতে পারে ওজন, ত্বকের বর্ণ কালচে হয়ে যেতে পারে, দিনভর ক্লান্তিবোধ হতে পারে এবং ঋতুচক্রেও সমস্যা দেখে দিতে পারে।
এ বিষয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝি বলেন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বংশগত বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো নিঃসৃত হওয়া সত্ত্বেও তা শরীরে ঠিকভাবে কাজ করে না। অগ্ন্যাশয় থেকে তৈরি হয় ইনসুলিন, যা শর্করাজাতীয় খাবার থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। শরীরে যদি সেই হরমোন ঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলেই শুরু হয় সমস্যা।
এ বিষয়ে মেডিসিনির চিকিৎসক চিরাগ টন্ডন বলেন, প্রতিদিনের জীবনযাপনের জন্যই দিনে দিনে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে। অজান্তেই কিছু অভ্যাস ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। সেই অভ্যাসে রাশ টানা জরুরি।
প্রথমেই যে অভ্যাস বদলানো জরুরি, তা হচ্ছে— আমাদের বেশিরভাগ পরিবারে সকাল শুরু হয় চিনি দিয়ে তৈরি দুধ চা এবং এর সঙ্গে বিস্কুট দিয়ে। এটা বন্ধ করতে হবে। কারণ খালি পেটে চিনি দেওয়া চা আর বিস্কুট খেলে আচমকা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। চা ও বিস্কুট দিয়ে সকাল শুরু না করে যদি একটি প্রোটিন এবং ফাইবার খাবার জুড়ে নেওয়া যায় বা কিছু খাবার খেয়ে চা খাওয়া যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে বাড়বে না।
আর কার্বোহাইড্রেট বেশি এবং প্রোটিন কম—এমন খাদ্যাভ্যাসে সকাল শুরু করা উচিত। যেমন— রুটি, পাউরুটি ও পরোটা। খাবারে প্রোটিন থাকে কম, কার্বোহাইড্রেট বেশি। এ ছাড়া চিনি ও মিষ্টি দিয়ে পরোটা খাওয়ার অভ্যাসও ক্ষতিকর। খাবারের মধ্যে প্রোটিনের মাত্রা থাকে খুবই কম। ফাইবারও প্রায় থাকে না বললেই চলে। তার ফলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। কারণ প্রোটিন ও ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া আইসক্রিম, পেস্ট্রিসহ নানা রকম ভাজাভুজিতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। এ ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতার ফলে ওজন বাড়ে। স্থূলত্বের মতো সমস্যা হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে কিংবা কমিয়ে দিতে পারে। তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।
আবার দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস বদলাতে হবে। রাতে খেতে কারও ১১টা, কারও ১২টা, আবার কারও ১টাও বেজে যায়। বেশি রাত করে খাওয়া, সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়ার প্রবণতাও ক্ষতিকর। এতে হজমের সমস্যা হয়। বিপাকীয় স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়ে। ফলে পরোক্ষভাবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments