বৃহস্পতিবার, ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের ভরাডুবির পেছনে ৪ কারণ
spot_img
spot_img

ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের ভরাডুবির পেছনে ৪ কারণ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাতে সুর মিলিয়েছেন। তবে শুধু ইরান যুদ্ধের কারণেই দলটি হেরে গেছে বিষয়টা এমন নয়। পেছনে আরও অন্তত চারটি কারণ আছে।

বৃহস্পতিবার রিপাবলিকানদের হারের পেছনে ৫টি কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। এতে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গও আছে। বাকি চারটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো:

১. জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত- সবখানেই নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভোটাররা। গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর নির্বাচনী প্রচারে তাদের সেই ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

বিবিসিকে নর্থ ক্যারোলাইনার এক ভোটার বলেন, গ্যাসের দাম, মুদিপণ্যের দাম- সবকিছুর দামই বাড়ছে। এ কারণে এবারের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান ছেড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ৫২ সেন্টের কাছাকাছি পৌঁছায়। যা রেকর্ড মূল্য।

ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জন (৭৯ শতাংশ) বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ও তাদের পরিবার গুরুতর বা মাঝারি ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এছাড়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জনেরও বেশি উত্তরদাতা এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি হওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্টের নীতিই দায়ী।

২. ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শৃঙ্খলা
দলটির বড় জয়ের পেছনে ছিলেন কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী। বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও তারা ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ- এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে ওই প্রার্থীরা প্রচারে ধারাবাহিক ও সুসংহত বার্তা দেন। সাবেক শিক্ষক জেমস তালারিকো ও যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টনও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেছেন। যথাক্রমে টেক্সাস ও কানসাসের ভোটারদের মধ্যে তাঁদের এই বক্তব্য সাড়া ফেলে।

সাউথ ক্যারোলাইনায় অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ধরনের জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। সাবেক এই শিশু চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। দেশটির অনেক মানুষ মনে করে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাই অ্যানির বার্তা ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

মিশিগানে জয়ী হয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রেখেছেন জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ। ‘রাজনীতি থেকে অর্থ বের করে মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দিন’- এই স্লোগানকে তিনি প্রচারের অন্যতম মূল বার্তা বানিয়েছিলেন।

জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে প্রচারের কেন্দ্রে রাখেন। ৩৯ বছর বয়সী এই প্রার্থী অঙ্গরাজ্যেটিতে স্বচ্ছন্দে জয়ী হয়েছেন। এর আগে সেখানে দুইবার জিতেছিলেন ট্রাম্প। অসফের এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন আরও জোরালো করবে।সংবাদ দেখুন

অন্যদিকে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী দুর্বল নির্বাচনী প্রচারের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাঁদের প্রচারে ভোটারদের উদ্বেগ ও চাহিদা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এ নিয়ে ট্রাম্প নিজেও ডেমোক্র্যাটদের প্রশংসা করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা ভালো করেছে।’

৩. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা
ভোটাররা যে দুটি বিষয়ে (পণ্যের দাম ও ইরান যুদ্ধ) সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ছিলেন সেগুলো সরাসরি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমে যায়।

সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ট্রাম্প ভোটারদের কল্পনা করতে বলেছিলেন, তিনি নিজেই প্রার্থী হয়েছেন। অর্থাৎ, ভোটাররা যেন মনে করেন, তারা সরাসরি ট্রাম্পকে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁর সেই রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের জৌলুশ কাজে দেয়নি।

বরং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল। অথচ তিনি এমন পরিস্থিতিতেও নিজেকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রাখেন। শেষ পর্যন্ত কৌশলটি উল্টো ফল দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

৪. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ সমর্থনে পরিবর্তন
দুই বছর আগে হিস্পানিক (ল্যাটিন বংশোদ্ভূত) ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একাংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিল। যা ট্রাম্পের বড় জয়ে ভূমিকা রাখে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই প্রবণতা উল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে।সংবাদ দেখুন

টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে।

অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের মধ্যেই ভোটারদের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিকের মাঝে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments