বৃহস্পতিবার, ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদউৎপাদন ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করা হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
spot_img
spot_img

উৎপাদন ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করা হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসা বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, বিশ্বের কোনো পরিণত শেয়ারবাজারে বন্ধ কোম্পানির শেয়ার আমাদের দেশের মতো স্বাভাবিকভাবে লেনদেন হয় না। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ খান বলেছেন, বাজার তদারকির ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) একটি প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা হলেও ব্যবস্থা নিতে এতদিন বিএসইসির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। ফলে ততক্ষণে অনিয়ম চলতেই থাকত। এ অবস্থার পরিবর্তনে ডিএসইকে তাৎক্ষণিক বা রিয়েল-টাইম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারের স্বার্থে এ ধরনের ডিরেগুলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে যারা এসেছেন, প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সে কারণে প্রথমে আমি দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলাম না। পরে যখন দেখলাম সরকার শেয়ারবাজার সংস্কারে আন্তরিক এবং আমাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তখন পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই।’

মাসুদ খান বলেছেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি পরিকল্পনাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী। ‘আমরা ৮০ শতাংশ সময় পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ সময় বাস্তবায়নে ব্যয় করি। বিএসইসিতে যোগদানের আগেও আমি তিন মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ ও পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে মাসুদ খান বলেছেন, মিউচুয়াল ফান্ড বড় না হলে বাজারের গভীরতা বাড়বে না। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশেরই ভালো কোম্পানি নির্বাচন বা বিশ্লেষণের সক্ষমতা নেই। তাই আন্তর্জাতিক অনুশীলনের আলোকে দেশে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা আর্থিক পরামর্শক সনদ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, মার্জিন ঋণ বিধিমালা এবং পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের কাজ চলছে।

তিনি বলেছেন, বর্তমানে একটি কোম্পানিকে আইপিওতে আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে দ্রুত ঋণ পাওয়া যায়। ফলে অনেক ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হয় না। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়োপযোগী করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ভবিষ্যতে ইউনিলিভার ও ইনসেপটার মতো বড় ও সুশাসিত কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোড করে ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারে। তবে নতুন নীতিমালায় সব ধরনের কোম্পানি মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমেই ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ পাবে।

মাসুদ খান বলেছেন, বিদ্যমান মার্জিন ঋণ বিধিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ঋণ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সংশোধিত বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট আকারে প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ঋণ গ্রহণ অনেক সহজ হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, সমালোচনা থাকলেও বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাচ্যুতি ঠেকানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি (সেটেলমেন্ট) টি+১ পদ্ধতিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ চলছে।

শেয়ারবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, বর্তমানে কমিশন জরিমানা বা শাস্তি দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আদালতে আটকে যায়। ফলে আগের কমিশন প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের পরিবর্তে মূল মার্কেটে বন্ড তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর কাজও এগিয়ে চলছে।

ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেছেন, নিয়োগ ও চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়ে ডিএসই একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এ বিষয়ে বিএসইসির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিএসইসিতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments