শনিবার, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদঋণ পরিশোধে ব্যর্থ আইসিবি: মেয়াদ বাড়াতে আবেদন
spot_img
spot_img

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ আইসিবি: মেয়াদ বাড়াতে আবেদন

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে পারছে না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।

আইসিবির আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে মূলত পুঁজিবাজারে বড় ধরনের লোকসান ও উচ্চ সুদের ঋণের চাপে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্রয়মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা হলেও এর বাজারমূল্য নেমে এসেছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকায়।

এ কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে অর্জিত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সুদও সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না আইসিবি। ফলে সুদের এ অর্থ ওভারডিউ হয়ে গেছে।

একসময় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে শত শত কোটি টাকা মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানটি এখন ধারাবাহিক লোকসানের মুখে। আইসিবির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা লোকসান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেও লোকসান হয়েছে ৫৮৮ কোটি টাকা। শেষ তিন মাসের হিসাব এখনও প্রকাশ না হলেও বছর শেষে লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মূলধন পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ঋণকে শেয়ারে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে আইসিবি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি এবং ঋণকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করা গেলে সুদ পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তবে এ জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

গত ১১ জুন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা অনুযায়ী উচ্চ সুদে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পুঁজিবাজারকে সহায়তা করেছে আইসিবি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কারণে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এবং সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল ফেরত দিতে হলে আইসিবিকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর, অর্থাৎ ১৩ মার্চ ২০২৬ থেকে ১২ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইসিবির দাবি, পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরলে মূলধনী মুনাফা, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় বাড়বে। একই সঙ্গে পোর্টফোলিওর অনার্জিত ক্ষতির বড় অংশ কাটিয়ে উঠে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইসিবি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কাছ থেকে আরও ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল পেয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ২ হাজার কোটি টাকা উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে এবং ১ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরকার থেকে পাওয়া ১ হাজার কোটি টাকাও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের ফলে বছরে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা সুদ ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ করা অর্থ থেকেও ভালো মূলধনী মুনাফা ও লভ্যাংশ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের পর অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ আইসিবিকে গ্যারান্টি ফি হিসেবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সাড়ে ৭ কোটি টাকা জমা দিতে বলে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করেছে।

এদিকে অতীতের অনিয়ম ঠেকাতে তহবিল ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইসিবির বর্তমান পর্ষদ। কর্মকর্তাদের দাবি, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ব্লক মার্কেট থেকে শেয়ার কেনা বন্ধ করা হয়েছে। ফলে পোর্টফোলিওর ক্ষয় কিছুটা কমেছে।

আইসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা হলেও শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় স্বল্প সুদের অর্থ বা ঋণকে শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ না পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

আইসিবির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। একই সময়ে পোর্টফোলিওর ক্রয়মূল্য ১৪ হাজার ১১৫ কোটি টাকা হলেও বাজারমূল্য নেমে এসেছে ৮ হাজার ৬০৮ কোটি টাকায়। ফলে পোর্টফোলিওতে ইরোশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তহবিলের একটি অংশ দিয়ে উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ করায় আইসিবির সুদ ব্যয় কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments