ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফল। এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, একসঙ্গে যত বেশি ধরনের ফল খাওয়া যায়, তত বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিতি ও সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ এক নয়। কোনো ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকে, আবার কোনোটি পটাশিয়াম, ভিটামিন এ বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। তাই বিভিন্ন ধরনের ফল খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। তবে সব ফল একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফল খেলে একই ধরনের পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।
একসঙ্গে অতিরিক্ত ফল খেলে শরীরে ফ্রুক্টোজ বা প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল বা আইবিএসের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
ফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফাইবার। এটি হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর। তবে একসঙ্গে অনেক ফল খেলে অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণের কারণে পেটব্যথা, গ্যাস, পাতলা পায়খানা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।
কিছু ফল একসঙ্গে খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টক ধরনের ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল মিশিয়ে খেলে কিছু মানুষের বমিভাব, মাথাব্যথা বা হজমজনিত অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই ফলের সংমিশ্রণ বেছে নেওয়ার সময় সচেতন থাকা ভালো।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। যদিও ফল পুষ্টিকর, তবুও এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। আম, কলা, আঙুর, লিচু বা কাঁঠালের মতো মিষ্টি ফল একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই তাদের জন্য ফলের পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফলের সালাদ খাওয়া ক্ষতিকর নয়, বরং সঠিকভাবে তৈরি করলে এটি বেশ উপকারী খাবার হতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৫ ধরনের মৌসুমি ফল দিয়ে তৈরি সালাদ শরীরের জন্য যথেষ্ট ভালো। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, মিষ্টি দই বা কৃত্রিম স্বাদবর্ধক যোগ না করাই উত্তম।
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। একবারে অনেক ধরনের ফল খাওয়ার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা ফল খাওয়া বেশি উপকারী। এতে শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং হজমতন্ত্রের ওপরও চাপ কম পড়ে।
এছাড়া স্থানীয় ও মৌসুমি ফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এসব ফল সাধারণত বেশি সতেজ, পুষ্টিকর এবং সহজলভ্য। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, পেঁপে, জাম, আনারস, কলা, কমলা কিংবা ডালিমের মতো ফল নিয়মিত খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির বড় অংশই পূরণ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, একসঙ্গে অনেক ফল খাওয়া সবসময় ক্ষতিকর না হলেও সেটিকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি বলা যায় না। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে এবং বৈচিত্র্য বজায় রেখে ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম




























Recent Comments