ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে ডিএসইর ট্রেকধারী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে। এ লক্ষ্যে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে। দলটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
পরিদর্শন দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিএসইসির সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা, ডিএসইর ব্যবস্থাপক এস এম আরমান এবং সিডিবিএলের উপব্যবস্থাপক শরীফ আলী ইরতেজা।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ), গ্রাহকদের শেয়ার ও ডিলার অ্যাকাউন্টের শেয়ার সমন্বয়ের অবস্থা, ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার বাস্তবায়ন, প্রকৃত নেটওয়ার্থ (সম্পদ ও দায়ের পার্থক্য) এবং বিএসইসি-আরবিসিএ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। পরিদর্শন শেষে দুটি হার্ডকপি ও একটি সফট কপিসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর গ্রাহক হিসাব ব্যবস্থাপনা, মার্জিন ঋণ, সিসিএ পরিচালনা এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিএসইসি তদারকি জোরদার করেছে। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম, গ্রাহকের সম্পদের নিরাপত্তা এবং আর্থিক সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক মো. আসলাম সেরনিয়াবাতের অনুমতি ছাড়া শেয়ার বিক্রি, বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল এবং মার্জিন ঋণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ ও ১৪ জুন তার কোনো লিখিত বা মৌখিক সম্মতি ছাড়াই বেক্সিমকো ফার্মার ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা।
আসলাম সেরনিয়াবাতের দাবি, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১-এ নামানোর নির্দেশনা পরিপালন করেছিলেন এবং ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো মার্জিন কল পাননি। ফলে তার পূর্বানুমতি ছাড়া শেয়ার বিক্রি বিএসইসির মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর লঙ্ঘন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩০ জুন নতুন করে মার্জিন কল জারি করে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ জমা দিতে বলা হলেও একই দিন তার আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়। এ অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বও ইতোমধ্যে ডিএসইকে দিয়েছে বিএসইসি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments