ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনিকে এতটা সমর্থন করেন—এটি তার প্রত্যাশার বাইরে ছিল।
অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে টেলিফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ধারণা করেছিলেন ইরানের জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। তবে জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ও আবেগপূর্ণ পরিবেশ তাকে বিস্মিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, জানাজাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল। তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর রয়েছে। তার ভাষায়, এটি কার্যত একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতির মতো।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
খামেনির শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো মানুষ সমবেত হন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহের পাশে পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও রাখা হয়। ছোট্ট জাহরার কফিন ও তার ছবি উপস্থিত মানুষের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল শিয়া ঐতিহ্যের লাল পতাকা, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় সমবেত জনতা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে খামেনির মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা ও শেষকৃত্য কর্মসূচি কয়েক দিন ধরে চলবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments