ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি জানায়, দেশের অর্থনীতি ২০২৬ অর্থবছরে পাঁচ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। একইসঙ্গে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে একাধিক বাধা ও ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। গত অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন হলো চার শতাংশ।
এডিবি আরও বলেছে, তৈরি পোশাক রপ্তানি স্থিতিশীল থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তন, ঘনঘন বন্যা, শিল্প খাতে শ্রমিক অস্থিরতা এবং বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই চার কারণে প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে।
এডিবির গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
এডিবি বলেছে, চলতি অর্থবছরে ভোগ্যব্যয় বাড়বে। কারণ রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনসংক্রান্ত নানা ধরনের খরচের কারণেও ভোগব্যয় বাড়াবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিনির্ভর করবে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যে মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। দেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা অব্যাহত রয়েছে। উচ্চতর অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা অর্জনের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা অপরিহার্য।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতি বাস্তবায়নের অনাগ্রহ প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে। এজন্য সঠিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুততর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ শতাংশ। এডিবি আরও জানায়, পাইকারি বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা, অপর্যাপ্ত বাজার তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা এবং টাকার দুর্বলতার কারণে মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ অর্থবছরের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি হিসাবে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশের সামান্য উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি থেকে বেশি, যা বাণিজ্য ব্যবধান সংকুচিত এবং শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্বারা সমর্থিত।
এডিবি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে ভোগব্যয়, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের কারণে বাড়বে। তবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বিনিয়োগকে মন্থর করতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা বাড়ায় রপ্তানি খাত এবং এর প্রবৃদ্ধি চাপ বাড়াবে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে রপ্তানিকারকদের মূল্য কমাতে হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম কমার ফলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি কমতে থাকবে। তবে এই সময়ে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি থাকবে আট শতাংশ, যা দক্ষিণ এই অঞ্চলে সব থেকে বেশি। একই সময়ে আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতি হবে মাত্র এক শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সব থেকে কম।
এডিবি মনে করে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর। এ লক্ষ্যে সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিতে স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কার্যক্রমে গতি আনা জরুরি। প্রতিযোগিতা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, নীতিগত স্থিতিশীলতা আনতে হবে এবং ব্যাংক খাতে সংস্কার আনতে হবে বলেও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সাধনে কাজ করছে। সংস্থাটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৬৯টি দেশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/শেফা
































Recent Comments