ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: জোরপূর্বক শ্রম আছে এমন দেশ থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করে কিনা– তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরেজমিন মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নিযুক্ত একটি গবেষণা দল আগামী ২১ থেকে ২৫ জুন বাংলাদেশ সফর করবে। বাংলাদেশে এ ধরনের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা এবং থাকলে তা বন্ধের জন্য ওই টিম সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।
জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামাল আমদানির অভিযোগে সম্প্রতি বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউএসটিআর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের টিমের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে জোরপূর্বক শ্রম থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানি এবং সরবরাহ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের টিম সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাতে উল্লেখিত বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস গত ১৮ মে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সফর সম্পর্কে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি অফিস আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।
মার্কিন দূতাবাসের নোটে বলা হয়েছে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বাংলাদেশে জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক আমদানি নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।
সমীক্ষা করবে আইসিএফ
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে সমীক্ষা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইসিএফ। প্রতিনিধি দলে থাকবেন আইসিএফের গবেষক অ্যান্ড্রু করফহেজ, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক অ্যাটাশে লিনা খান এবং শ্রম বিশেষজ্ঞ সাইফুজ্জামান মেহরাব।
সফরকালে তারা সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমমান, আমদানি ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং শ্রম অধিকার বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সফরটি নির্বিঘ্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, বাণিজ্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট (সিআইআইডি) এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে (ডাইফ) প্রয়োজনীয় বৈঠকের ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যা বলছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান সমকালকে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারের অভিযোগে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, বাংলাদেশ এমন কোনো উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে না, যেখানে জোরপূর্বক শ্রম রয়েছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩০৭-এর আওতায় উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশ বিতর্কিত কোনো উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানি করে না। ফলে জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ধারা ১.১৯-এ বলা হয়েছে, শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ তার শ্রম পরিদর্শকদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সংস্থান বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে, শ্রম পরিদর্শকরা যেন ইপিজেডসহ বাংলাদেশের যে কোনো কর্মস্থলে অঘোষিত পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারেন এবং জোরপূর্বক শ্রম ও শিশু শ্রম-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা বা দণ্ড জারি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
চুক্তির ধারা ২.৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন সব পণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছে, যা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কয়েদি শ্রম, জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চুক্তিভিত্তিক বাধ্যতামূলক শ্রম এবং বাধ্যতামূলক শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত বা খনি থেকে উত্তোলিত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments