Home / জাতীয় / থমকে আছে বিটিসিএলের ফাইভজি প্রকল্প

থমকে আছে বিটিসিএলের ফাইভজি প্রকল্প

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সরকার ইন্টারনেট সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার জন্য নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। দেশের ফাইভজি মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফোরজিকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি (বিটিসিএল) হাতে নেয় অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক প্রকল্প।

প্রকল্পের ৪৬০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র ডাকা হলেও তা আটকে আছে নানা জটিলতায়। অভিযোগ রয়েছে, একটি পক্ষ কাজ বাগিয়ে নিতে দরপত্র বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো দরপত্রের কার্যক্রম শেষ না হলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ আটকে যাবে। বাধাগ্রস্ত হবে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।

সূত্র জানয়, বিটিসিএলের ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ৪৬০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করার শেষ সময় ছিল ২ নভেম্বর। ২০ ডিসেম্বর দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, নকিয়া, জেডটিই ও হুয়াওয়ে এই তিন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে।

পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল) নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের আহ্বায়ক আজম আলী কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জির আহমেদের কাছে জমা দিয়েছেন, যা পরে বিটিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামানের কাছে জমা দেন প্রকল্প পরিচালক। তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাপ্তরিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। কারণ, এই প্রতিবেদন গ্রহণ করার এক সপ্তাহের মধ্যে দরপত্রের ফলাফল ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে পিপিআরে। দরপত্রের আর্থিক প্রতিবেদন খোলার ক্ষেত্রও কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৪ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প দরপত্রের সরঞ্জামের কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়া জেডটিই একটি অভিযোগ জমা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানও প্রকল্পের চলমান প্রক্রিয়া এবং কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আবার দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্য কোম্পানি হুয়াওয়ে ১৬ মে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি দিয়ে নিয়ম অনুসারে দরপত্রের পুরো প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে।

৩০ অক্টোবর তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের সভাপতিত্বে বিটিসিএলের পরিচালক পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক এবং দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে বিটিসিএল অফিসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখের আগে আয়োজিত সেই সভায় দরপত্র বিষয়ে মতামত, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ জানতে চাওয়া হয় বা ৩ নভেম্বরের মধ্যে বিটিসিএলকে লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়। সেই সভায় কিংবা পরবর্তী সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো আপত্তি জানায়নি বলে জানিয়েছেন বিটিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দরপত্র জমা এবং কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির পর অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলার মানে, দরপত্র আটকে দেওয়া। এখানে সেই চেষ্টা হচ্ছে। এমনটি হলে ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্প শুরুর আগেই থমকে যাবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জির আহমেদ সমকালকে বলেন, দরপত্র নিয়ে কিছু জটিলতা হয়েছে। নানা পক্ষ অভিযোগ-আপত্তি জমা দিয়েছে। তিনি জানান, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওপর মহলের অনুমতি পেলে আর্থিক প্রস্তাবনা খোলা হবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ই.

Check Also

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *