ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৩৭.২৭ শতাংশ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

তথ্যমত, সর্বশেষ আগস্ট মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে সাত হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০১ শতাংশ বেশি।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন ব্যাংকে টাকা রাখলে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে সুদহার বেশি, প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এ ছাড়া সরকারের গ্যারান্টি থাকায় সবচেয়ে নিরাপদও। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁঁকছেন মানুষ।
কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছিল। তবে লাগাম টানতে গত বছরের মাঝামাঝিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বেশ কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমতে থাকে। এরপর গত মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর স্থবির হতে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের চাকা ছিল প্রায় বন্ধ। এতে অনেকেরই আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মে পর্যন্ত সঞ্চয় বিক্রি তলানিতে নেমে যায়। তবে জুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কিছুটা গতি আসে। জুনে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। জুনের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি আরো বাড়ে। ওই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়ায় তিন হাজার ৭০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৭.৫০ শতাংশ বেশি ছিল। গত অর্থবছরের জুলাইতে দুই হাজার ২১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।
গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বিক্রি কমতে থাকায় পরবর্তী সময়ে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ধরা হয়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় মাত্র ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম


































Recent Comments