ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে আজ রাতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। যে ম্যাচে ‘অপয়া’ এক পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলার যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা আট ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ছয় বিশ্বকাপে গোল করার ইতিহাস গড়া রোনালদো কি পারবেন নকআউট পর্বে জ্বলে উঠতে? টরন্টোতে পর্তুগালকে উল্লাসে মাতিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে টেনে নিতে?
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে ১১ গোল করে গ্যারি লিনেকার, টমাস মুলার ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার মতো কিংবদন্তির পাশে স্থান করে নিয়েছেন রোনালদো। কিন্তু সাবেক এই ম্যানইউ ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকার ১১ গোলের ১০টিই এসেছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকে।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপে এসেই ইতিহাস গড়েছিলেন রোনালদো। ইরানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টে গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। ওই বিশ্বকাপে পর্তুগাল চতুর্থ স্থান অর্জন করলেও নকআউট পর্বে চার ম্যাচ খেলেও গোলের দেখা পাননি রোনালদো। কিন্তু তখন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড একজন উইঙ্গার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এবং দলের সেন্টার ফরোয়ার্ডের দায়িত্বে না থাকায় তেমন সমালোচনার মুখে পড়েননি।
পরেরবার ২০১০ বিশ্বকাপে যখন অংশ নেন, ততদিনে রোনালদো পর্তুগাল অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেলেসাও দাস কুইনোসরা ওই আসরে শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৬ মাসের গোলখরা কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও নকআউট পর্বে দলকে টেনে তুলতে ব্যর্থ হন রোনালদো।
পরের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে মূলপর্বের টিকিট এনে দেন রোনালদো। বিশেষ করে সুইডেনের বিপক্ষে বাছাইপর্বের প্লে-অফের ‘মহারণে’ পর্তুগালের চার গোলের সবকটিই করেন এ ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের আগে তাঁর হাঁটু ও ঊরুতে চোট থাকা নিয়ে গুঞ্জন উঠলে নিজেকে ‘শতভাগ’ ফিট বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপেও নিষ্প্রভ ছিলেন তখনকার রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। আসরের প্রথম ম্যাচেই জার্মানির বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরে যায় পর্তুগাল। যে ম্যাচে রোনালদোকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরের দুই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-২ গোলের ম্যাচে সতীর্থ সিলভেস্ত্রে ভারেলার করা সমতাসূচক গোলে বলের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ঘানার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন রোনালদো। কিন্তু টুর্নামেন্টের ‘জি’ গ্রুপে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল।
রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। লা রোজাদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে পর্তুগালকে এক পয়েন্ট এনে দেন রোনালদো। টুর্নামেন্টে দলকে নকআউট পর্বে টেনে নিলেও শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আসর থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। নকআউট পর্বের ম্যাচটিতে গোল বা অ্যাসিস্ট কোনোটিই করতে পারেননি ততদিনে ৩৩-এ পা রাখা রোনালদো।
কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে রোনালদোকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস, যে ম্যাচে রোনালদোর বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোসের হ্যাটট্রিকে ৬-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল। পরে এ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়। এমনকি দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওযারও হুমকি দিয়েছিলেন রোনালদো। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন সেলেসাও দাস কুইনোসরা। যে ম্যাচটিকে পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
বিশ্বকাপের অন্যতম বর্ষীয়ান খেলোয়াড় হিসেবে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন রোনালদো। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন ৪১ বছর বয়সী আল-নাসর তারকা। যে ম্যাচে আফ্রিকান দলটির সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে পর্তুগাল। পরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দলের ৫-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে ক্যামেরার সামনে রোনালদোকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ফিরে এসেছি। আমি ফিরে এসেছি।’ কিন্তু তাঁর এ কথায় অনেকেই আস্থা রাখতে পারছেন না, সেটি নিশ্চিত।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments