
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কড়াকড়িতে গত ২ বছর ধরে অযৌক্তিক বোনাস শেয়ার দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। আগে নগদের চেয়ে বোনাস দেওয়ার যে প্রবণতা ছিল, এখন সেটা অনেক তলানিতে। যাতে করে ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যবসায় নগদের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের জন্য উদ্যোক্তা/পরিচালকদের অযৌক্তিক বোনাস শেয়ারকে দায়ী করা হয়। যেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে কমিশনের চেষ্টায় ডিভিডেন্ডের কমপক্ষে অর্ধেক নগদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপরেও বোনাস শেয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসইসির কাছে জবাবদিহি করতে হয়।
২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৯ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৫১ কোটি বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই ঘোষণা করা হয়েছে। যা বার্ষিক সাধারন সভায় (এজিএম) স্ব স্ব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে প্রদান করা হবে।
আগেরবারের তুলনায়ও এ বছর বোনাস শেয়ারের পরিমাণ কমে এসেছে। একইসঙ্গে ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সঙ্গে বোনাস শেয়ারের ব্যবধানও বড় হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২১৩ কোম্পানি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে বোনাস শেয়ারের পরিমাণ ৫১ কোটি বা ৫১০ কোটি টাকার। যা নগদ লভ্যাংশের ৬ শতাংশ।
তবে এই বোনাসের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসত, যদি ডিসেম্বর ক্লোজিং ন্যাশনাল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা ব্যাংকের লভ্যাংশ সভা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাংক দুটি ডিসেম্বর ক্লোজিং হলেও জুনের পরে এসে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। যেখানে ৫১ কোটির মধ্যে এই ব্যাংক দুটি থেকেই ১৮ কোটি ৪৭ লাখ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৪৯ কোম্পানির পর্ষদ ২০২০-২১ অর্থবছরের (দু-একটি ডিসেম্বরসহ অন্যান্য ক্লোজিং) ব্যবসায় ৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮৭টি বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যা কোম্পানিগুলোর এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে প্রদান করা হবে। এতে কোম্পানিগুলোর ৫০৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭০ টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়বে।
নগদের চেয়ে বেশি বোনাসে অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপের কারনে গত ২ বছর ধরে বোনাস শেয়ারের পরিমাণ কমে এসেছে। অন্যথায় নগদের চেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার দিতে গেলেই পুরো বোনাসের উপরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ করারোপের শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
এছাড়া অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনও বোনাস শেয়ারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এখন কেউ চাইলেই ব্যবসায় সম্প্রসারন ছাড়া বা অযৌক্তিকভাবে বোনাস শেয়ার দিতে পারে না। এমনকি বোনাস শেয়ার দিতে হলে আগে বিএসইসির সম্মতি নিতে হয়।
তারপরেও ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে ৯টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ৩টি কোম্পানির পর্ষদ নগদের চেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ওইসব কোম্পানিগুলোকে বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে।
এ বছর বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা ৪৯ কোম্পানির মধ্যে ৪০টির পর্ষদ ক্যাশ ডিভিডেন্ডও ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে ৩৭টির পর্ষদই বোনাসের চেয়ে বেশি হারে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
এর আগের বছর (২০১৯-২০) ৫৬ কোম্পানির পর্ষদ ৫৪ কোটি ২৮ লাখ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল। এরমধ্যে শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল ৯টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ৭টি কোম্পানির পর্ষদ নগদের চেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, করোনার কারনে অনেক কোম্পানির ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তারপরেও ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার কড়াকড়ি আরোপের কারনে গত ২ বছর ধরে বোনাস শেয়ার কমে এসেছে। এটা নিসন্দেহে ভালো খবর। তবে যদি করোনা না থাকত বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি থাকত, তাহলে বোনাসের পরিমাণ আরও কমে আসতে পারত।
তিনি বলেন, বোনাস শেয়ারের জন্য শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারপরেও চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছরই অনেক কোম্পানির বোনাস শেয়ারের বড় চাপ বাজারে আসত।
ওই সময়ে (১ জুলাই-২৬ নভেম্বর) সবচেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে দেরিতে পর্ষদ সভা করা ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের ন্যাশনাল ব্যাংক। এ ব্যাংকটি থেকে ২০২০ সালের ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদেরকে ৫ শতাংশ হারে মোট ১৫ কোটি ৩৩ লাখ বোনাস শেয়ার দেওয়া হবে।
এরপরের অবস্থানে রয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত। এ কোম্পানিটি থেকে ১০ শতাংশ হারে ৩ কোটি ৯৭ লাখ বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হবে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে ৩ কোটি ১৪ লাখ বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হবে। এ ব্যাংকটির ব্যবসা ডিসেম্বর ক্লোজিং হলেও আইপিও প্রক্রিয়ায় থাকায় পর্ষদ সভা বিলম্বে হয়েছে।
এ বছর সবচেয়ে কম বোনাস শেয়ার ইস্যু করবে স্বল্প মূলধনী কে অ্যান্ড কিউ। এ কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে ২ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে। এরপরের অবস্থানে থাকা রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬ লাখ এবং ন্যাশনাল ফিড ৯ লাখ বোনাস শেয়ার ইস্যু করবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অমি.
































Recent Comments