ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একটি উন্নত, স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসকে আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনি যদি গতকাল বা আজকের গণমাধ্যম খেয়াল করে দেখেন, তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।”
পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের ঘোষিত প্রধান উদ্যোগগুলো হলো—
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান এবং তিনজন কমিশনার নিয়োগ।
নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার।
লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা।
বহুজাতিক ও বৃহৎ মূলধনী কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া।
এসএমই ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি।
বাজার কারসাজির তথ্যদাতাদের সুরক্ষা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা।
তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারীদের নিরীক্ষায় উন্নত নীতিমালা প্রণয়ন।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু।
ওয়ান-স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু।
ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কমানো এবং লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার।
বিও (BO) হিসাব খোলা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা।
পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের বিধান যুক্ত করা।
পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন ও বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন।
ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ও পণ্যের সম্প্রসারণ।
ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইলভিত্তিক বিও হিসাব এবং ট্রেডিং সুবিধা চালু।
ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিও হিসাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাজারে অনিয়ম ও জালিয়াতি শনাক্ত, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদার এবং সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাজার কারসাজি, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম ওঠানামা, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতির অভাবের কারণে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতন হয়েছে।
তিনি জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কয়েকটি অভিযোগের অনুসন্ধান করে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাশাপাশি আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজার কারসাজি ও অনিয়মের দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) শক্তিশালী করার বিষয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এবং পুঁজিবাজারও এর বাইরে নয়।
তিনি বলেন, “আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিয়েছি। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে শুধু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও (সিএসই) একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”
বীমা কোম্পানিতে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments