ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ১০টি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তহবিল নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন এই অস্ত্রটি কিনে কিয়েভকে সরবরাহ করার জন্য তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তহবিল নিশ্চিত হয়েছে। জার্মানি দুটি ও নরওয়ে একটি প্যাট্রিয়টের তহবিল দিতে সম্মত হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
জেলেনস্কি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের কাছে বিক্রি করে দেবেন। আমাদের কাজ হলো ১০টি ব্যবস্থার জন্য তহবিল খুঁজে বের করা। এরই মধ্যে জার্মানি দুটি ও নরওয়ে একটির তহবিল দিতে সম্মতি জানিয়েছে। আরও সাতটির জন্য আমাদের তহবিল দরকার। বর্তমানে আমরা আমাদের ডাচ অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনের অধীনে কিয়েভকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তার সমালোচনা করেছেন। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের কৌশলী এক পদ্ধতি সামনে আনেন। ন্যাটোর মাধ্যমে দেশটিতে অস্ত্র পাঠাতে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছার কথা জানান তিনি। এসব অস্ত্রের পুরো খরচ বহন করবে সামরিক জোটটি। অর্থাৎ, ইউক্রেনে পাঠানো অস্ত্রের খরচ ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও কিয়েভ এক হাজার থেকে তিন হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে ড্রোন সরবরাহ করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমরা একমত হয়েছি, তারা আমাদের কাছ থেকে ড্রোন কিনবে। এই চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে।
এদিনে জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মস্কো ও কিয়েভের আলোচকরা জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউক্রেন দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের জন্য চাপ দিচ্ছে। আমরা আশা করছি, যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দেওয়া ট্রাম্পও এতে অংশ নিতে পারেন।
এর আগে পুতিন জানান, তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তবে সেটি হবে কেবল তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধ অবসানের আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে।
জেলেনস্কি বলেন, এই যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এটি সম্ভবত দুই নেতার বৈঠকের মাধ্যমে শুরু হবে। আমাদের সঙ্গে তারা এটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এটি ইতোমধ্যে বৈঠকের অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পরপর প্রথম গণবিক্ষোভের মুখে পড়লেন জেলেনস্কি। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে দুটি প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন আইনের খসড়া পার্লামেন্টে জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এই সংস্থাগুলোর ক্ষমতা খর্ব করার কয়েক দিন পরই এমন পদক্ষেপ নিলেন জেলেনস্কি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.





























Recent Comments