বুধবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeবিনোদনপ্রতিটি কাজের মাধ্যমে আমি নিজেকে ভাঙতে চাই: মম
spot_img
spot_img

প্রতিটি কাজের মাধ্যমে আমি নিজেকে ভাঙতে চাই: মম

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: জাকিয়া বারী মম। অভিনেত্রী। এনটিভিতে আজ প্রচার শুরু হচ্ছে তাঁর অভিনীত দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। আবুল বাশারের ‘পবিত্র অসুখ’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে এর নাট্যরূপ দিয়েছেন মনসুর রহমান চঞ্চল এবং পরিচালনা করেছেন রাকেশ বসু। নাটকটি প্রতি সোম, মঙ্গল ও বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে প্রচার হবে। এই নাটক ও অনান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী

এনটিভিতে আজ প্রচার শুরু হচ্ছে আপনার অভিনীত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। নতুন নাটকটি নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
নতুন কোনো কাজ দর্শকের সামনে এলে সব সময়ই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। চাওয়া পাওয়া নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। কারণ এটি শুধু একটি ধারাবাহিক নয়, মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা, সংকট, স্বপ্ন আর বাস্তবতার গল্প। আমরা সবাই খুব আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। এখন দর্শক কীভাবে নাটকটি গ্রহণ করেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার বিশ্বাস, গল্পের সঙ্গে দর্শক নিজেদের জীবনের অনেক মিল খুঁজে পাবেন।

নাটকটি আবুল বাশারের ‘পবিত্র অসুখ’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। সাহিত্যনির্ভর গল্পে কাজ করতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সাহিত্যভিত্তিক গল্পে কাজ করতে আমি সব সময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ সাহিত্য থেকে নির্মিত গল্পের একটা আলাদা গভীরতা ও শক্তি থাকে। সেখানে চরিত্রগুলো অনেক বেশি পরিণত, বাস্তবধর্মী এবং বহুস্তরীয় হয়। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এমন চরিত্র নিয়ে কাজের সুযোগ সব সময়ই উপভোগ করি। আমার মনে হয়, সাহিত্য মানুষের জীবন, সম্পর্ক, ভালোবাসা, সংকট আর মানসিক দ্বন্দ্বকে খুব সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। ফলে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য চরিত্রটি বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের অনেক সুযোগ থাকে। ‘চাওয়া পাওয়া’ নাটকের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি অনুভব করেছি। গল্প ও চরিত্রের ভেতরে যে আবেগ ও মানবিকতা রয়েছে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। আশা করি, দর্শকরাও সেই অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারবেন।

নাটকে আপনার অভিনীত চরিত্রের নাম ‘মম আহমেদ’। নিজের নামের চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লাগল?
(হাসি) সত্যি বলতে, বিষয়টি আমার জন্য একটু চ্যালেঞ্জেরই ছিল। প্রথমদিকে চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে আলাদা করে ভাবতে কিছুটা সময় লেগেছে। কারণ দর্শক যখন ‘মম’ নামটি শুনবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে একটা মিল খুঁজে পাবেন। কিন্তু নাটকের ‘মম আহমেদ’ সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ, যার জীবন, মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা আমার বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলে না। চরিত্রটির মধ্যে আবেগের অনেক স্তর রয়েছে। কখনও সে খুব দৃঢ়, আবার কখনও ভীষণ ভেঙে পড়ে। এই পরিবর্তনগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি চেষ্টা করেছি চরিত্রটির ভেতরের অনুভূতিগুলো দর্শকের কাছে সত্যি করে পৌঁছে দিতে। আশা করি, দর্শক পর্দায় আমাকে নয়, ‘মম আহমেদ’কেই দেখবেন।

ইন্তেখাব দিনার, ডলি জহুরসহ অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
দারুণ। দিনার ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু শেখা যায়। ডলি মা তো আমাদের সবার অনুপ্রেরণা। আবার নতুন শিল্পীদের মধ্যেও দারুণ উদ্যম দেখেছি। পুরো ইউনিটে একটা পারিবারিক পরিবেশ ছিল, যেটা ভালো কাজের জন্য খুব প্রয়োজন।

দীর্ঘ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
একই চরিত্রকে দীর্ঘ সময় ধরে একই রকম আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতায় ধরে রাখা। চরিত্রের আবেগ, মানসিক পরিবর্তন, সম্পর্কের ওঠানামা– সব মনে রেখে অভিনয় করতে হয়। এটা সহজ নয়, তবে চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করি।

এখন দর্শকের বড় একটি অংশ ওটিটির দিকে ঝুঁকছে। টিভি নাটকের ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন?
আমি মনে করি, মাধ্যম বদলাতে পারে, কিন্তু ভালো গল্পের প্রয়োজন কখনও শেষ হবে না। দর্শক যদি মানসম্মত গল্প পান, তাহলে টেলিভিশনেও দেখবেন, ওটিটিতেও দেখবেন।

আপনি সব সময়ই চরিত্র নির্বাচন নিয়ে সচেতন। একটি কাজ শুরুর আগে কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?
আমার কাছে সবকিছুর আগে গল্প। গল্পটি আমাকে স্পর্শ করছে কিনা, সেটাই প্রথম দেখি। এরপর চরিত্রটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা কতটা পর্দাজুড়ে থাকবে, সেটা নয়; বরং চরিত্রটির ভেতরে অভিনয়ের সুযোগ কতটা আছে, সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় চেষ্টা করি, একটি কাজের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। একই ধরনের চরিত্র বারবার করলে একজন শিল্পী হিসেবে নিজের বিকাশের সুযোগ কমে যায়। তাই এমন চরিত্র খুঁজি, যা আমাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে, নতুন কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রতিটি কাজের মাধ্যমে আমি নিজেকে একটু হলেও ভাঙতে চাই, নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাই। আমার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর শেখার কোনো শেষ নেই। তাই প্রতিটি নতুন চরিত্রই আমার কাছে নতুন একটি যাত্রা।

আপনার অভিনয়জীবনে ফিরে তাকালে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী?
নিঃসন্দেহে দর্শকের ভালোবাসা। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় অর্জন বা সম্পদ হচ্ছে তাঁর দর্শক। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি, কারণ দীর্ঘদিন ধরে মানুষ আমার কাজ দেখছেন, মনে রাখছেন এবং নতুন কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! আমার ক্যারিয়ারে পুরস্কার পেয়েছি, প্রশংসাও পেয়েছি। এসব অবশ্যই অনুপ্রেরণা দেয়। কিন্তু কোনো দর্শক যখন এসে বলেন, ‘আপনার অমুক চরিত্রটি এখনও মনে আছে’ কিংবা ‘আপনার অমুক নাটক বা সিনেমায় অভিনয় আমাকে ছুঁয়ে গেছে’, তখন সেটার অনুভূতি অন্যরকম। এই ভালোবাসাই আমাকে প্রতিবার নতুন করে কাজ করার সাহস দেয়। তাই আমি সব সময় চেষ্টা করি এমন কাজ করতে, যেটা শুধু প্রচারের সময় নয়, অনেক দিন পরও দর্শকের মনে থেকে যাবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments