বুধবার, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাপ্রতি রাতে গরম দুধে মধু মিশিয়ে খেলে কী হয়?
spot_img
spot_img

প্রতি রাতে গরম দুধে মধু মিশিয়ে খেলে কী হয়?

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সুস্থতার জন্য অনেকেই অনেক ধরনের সাপ্লিমেন্ট খান। চুমুক দেন বিভিন্ন পানীয়ে। জেনে অবাক হবেন, ঘরে থাকা তরল দুধ ও মধু একসঙ্গে খেলে আপনি সুস্থ ও ফিট থাকবেন। কারণ দুধকে বলা হয় সুষম খাবার। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন রয়েছে। অন্যদিকে, খাঁটি মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরপুর।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক জটিলতা নিমেষে দূর হয়। দুধ ও মধু একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করার পর পুষ্টির শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

গরম দুধে মধু মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

অনিদ্রা দূর
যারা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই পানীয় ওষুধের মতো কাজ করে। দুধে রয়েছে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মস্তিষ্কে গিয়ে ‘সেবোটোনিন’ এবং পরে ‘মেলাটোনিন’ বা ঘুমের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। মধুর গ্লুকোজ এই ট্রিপটোফ্যানকে খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ফলে মন শান্ত হয় এবং নিমেষেই ঘুম আসে।

বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি বা গলার খুসখুসে ভাব দূর করতে দুধ-মধুর মিশ্রণ অনন্য। মধুর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা গলার ভেতরের সংক্রমণ দূর করে। আর গরম দুধ শরীরের ক্লান্তি দূর করে শক্তি জোগায়। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ে, ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ সহজে শরীরকে কাবু করতে পারে না।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমে
মধু কটি চমৎকার ‘প্রিবায়োটিক’, যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, গরম দুধ পরিপাকতন্ত্র বা বাওয়েল মুভমেন্টকে সচল রাখে। রাতে এই মিশ্রণটি খেয়ে ঘুমালে সকালে পেট পরিষ্কার হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো ক্রনিক সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া যায়।

কমে জয়েন্টের ব্যথা
দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখার জন্য প্রধান উপাদান। কিন্তু অনেক সময় শরীর এই ক্যালসিয়াম পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। বিজ্ঞান বলছে, মধুর মধ্যে থাকা বিশেষ পুষ্টিগুণ রক্তে ক্যালসিয়াম শোষণের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয়, হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে
দুধ ও মধুর মিশ্রণ ভেতর থেকে শরীরকে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তের পরিচ্ছন্নতা বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে, চেহারায় উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। এছাড়া চুলের গোড়াতেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়, ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

সতর্কতা
অতিরিক্ত গরম দুধে কখনো মধু মেশাবেন না। কারণ অতিরিক্ত তাপে মধুর ওষধি গুণাগুণ ও এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দুধ ফোটানোর পর তা হালকা গরম অবস্থায় এলে তবেই তাতে মধু মেশাবেন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments