ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দুই লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের মুখে স্পেন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে (Cap Ferret) উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে আটলান্টিক উপকূলবর্তী ক্যাপ ফেরে এলাকায় তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত দাবানলে ইতোমধ্যে ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতার কারণে এলাকা থেকে গ্রামভিত্তিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেবল গত দুই দিনেই প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটকও রয়েছেন।
আগুনে উপদ্বীপের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে শত শত মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ৮০টি বাড়ি পুড়ে গেছে।
এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের উপকণ্ঠে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল আকার ধারণ করায় সরকার প্রথমবারের মতো দাবানল মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। মাদ্রিদ ও পাশের আভিলা প্রদেশে ৬৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
স্পেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি বৈঠক করে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফ্রান্সে প্রায় ৮০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও চারটি পানি নিক্ষেপকারী বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিসকারোস এলাকায় আরেকটি দাবানলে আরও আড়াই হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৩১ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করেছেন। এর আওতায় ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টার সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বর্তমানে দেশজুড়ে ৩২টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এ ধরনের ভয়াবহ দাবানলের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments