ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বড় পরিসরের সবুজ বিনিয়োগের সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর হিসাবে, ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশে গ্রিন বিল্ডিং, পরিবহন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
তবে এই ১৭২ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিত বিনিয়োগের অঙ্ক নয়। বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য জলবায়ু-স্মার্ট বিনিয়োগের বাজারের আকার হিসাব করে এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে গ্রিন বিল্ডিংয়ে। এ খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ১১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর পরিবহন অবকাঠামোয় ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন, নগর পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনায় ১৩ বিলিয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৪ বিলিয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাবের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে ‘বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশের এই বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।
তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, পরিবহন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, অবকাঠামো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের সবুজ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতির প্রশ্ন
সবুজ বিনিয়োগ এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও এটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পোশাক, চামড়া, কৃষি ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণের গুরুত্ব বাড়ছে।
সবুজ প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়লে একদিকে শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয় ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এম ওমর তাইয়ুব সম্প্রতি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্প খাতে বড় অঙ্কের সবুজ অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। এ জন্য প্রচলিত ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি, বন্ড ও সুকুকের মতো বিকল্প অর্থায়নের উৎস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিনিয়োগ আনতে প্রয়োজন নীতি ও অর্থায়ন
বিশাল এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি গ্রিন বন্ড, সুকুক, ইকুইটি ও জলবায়ু তহবিলের মতো বিকল্প অর্থায়নের উৎস সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, বিদ্যুৎ, অনুমোদন ও সরকারি সেবা সহজ করা, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
স্পেনের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আহ্বান
মাদ্রিদের সেমিনারে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।
ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। চেম্বারের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো জানান, আগামী নভেম্বর নাগাদ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৭২ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি বাংলাদেশের জন্য কোনো নিশ্চিত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং আগামী কয়েক বছরে শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বাজারের একটি চিত্র।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments