
ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আমরা একটি স্পর্শকাতর জায়গায় কাজ করি। আমাদের বা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে থেকে কোন কিছু হলেই সেটা বাজারে প্রভাব পড়তে দেখা যায়। তাই আমাদেরকে অনেক সাবধানতার সাথে কাজ করতে হবে। সকলে একসঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্যা ও আইন নিজেরাই সমাধান করে আমরা এই বাজারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করব। ৬ জুন ২০২২ (সোমবার) আয়োজিত CAMLCO সম্মেলনে সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এসব কথা বলেন।
আজ ৭ জুন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পূর্ববর্তী সম্মেলনের সিদ্ধান্ত সমূহের পরিপালন অগ্রগতি পর্যালোচনা, মতবিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমে পরবর্তী বছরের কৌশলগত কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে বিগত ৬ জুন ২০২২ (সোমবার) CAMLCO সম্মেলন আয়োজন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি’র নবনিযুক্ত কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম এর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন ট্রাইবুনালের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং এর বিষয়টি সমগ্র বিশ্বে উদ্বেগের একটি জায়গা। বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এটি বেশি ঘটে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যে দেশ থেকে মানিলন্ডারিং হয় পরবর্তীতে সে অর্থ সেই দেশের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয় যা অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সততা থাকতে হবে। যদি তারা তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে তাহলে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। বর্তমানে আমাদের সমাজের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ মানিলন্ডারিং করছেন যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। দেশের বর্তমান সরকারের অধীনে সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি করছে। যা সমগ্র বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরী। যা বিশ্বের কাছে আমাদের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেছে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার, ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদ মিজানুর রহমান, মোঃ আব্দুল হালিম এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুসুর রহমান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিএসইসি’র কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পৃথিবীর সকল উন্নয়নশীল দেশে মানিলন্ডারিং হয়ে থাকে। এটি আমাদের সকলকে প্রতিহত করতে হবে। মানিলন্ডারিং এর বিভিন্ন মামলা হয়। কিন্তু এই মামলাগুলোর সঠিকভাবে তদন্ত করার সক্ষমতা আমাদের নেই। যার কারণে সঠিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন হয় না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং নিয়ে কাজ করে বিএফআইইউ। কিন্তু তাদেরকে আরও ক্ষমতা দেয়া প্রয়োজন। আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সে ভূমিকাটি ধীরে ধীরে স্থাপিত হচ্ছে। আমরা যদি সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি, তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে ও দেশের জিডিপি আরও বৃদ্ধি পাবে। মানিলন্ডারিংকে প্রতিহত করতে হলে রাজনৈতিক অগ্রহ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সে সদিচ্ছা রয়েছে এবং আমরা আগামী দিনে মানিলন্ডারিং প্রতিহত করে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারবো।
দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী সেশনে বিএসইসি’র কমিশনার ড. রুমানা ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
বিএসইসি’র চেয়ারম্যান বলেন, আজকের এই সম্মেলনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং বিষয়ে আপনাদের সবার আন আগের থেকে আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, এই সম্মেলনে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, ডিবিএ এবং সকল মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সকল প্রতিনিধি সহ বাজার সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিত দেখে আনন্দিত হয়েছি।
তিনি উল্লেখ করেন যে, আমাদের দেশ ২০০৯ সাল থেকে ভালো করছে এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে। আমরা যদি একটু পিছনে লক্ষ্য করি তাহলে দেখব হলি আর্টিজান এর ঘটনায় আমাদের দেশে পোশাক রপ্তানিতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তখন ক্রেতারা অনেক অর্ডার এদেশ থেকে বাতিল করে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাচ্ছিল। কারণ তারা মনে করতে শুরু করেছিল যে এদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারণ, যেসব দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক ও মাফিয়া সহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম থাকে সেখানে কেউ ব্যবসা করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, আজকে এখানে যেসব কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন তারা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত আছেন। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কিছু একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের দেশে মানিলন্ডারিংয়ের জন্য যে সকল আইন ও শান্তি বিধান করা হয়েছে সেগুলো কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে। আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানে যেতে না পারি তাহলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। যদি মানিলন্ডারিং বিষয়টি দেশে পাওয়া যায় তাহলে অনেক ব্যবসা বাতিল হয়ে যাবে। ঠিকমতো কমপ্লায়েন্স। না করলে ব্যবসা করা যায় না। এই কমপ্লায়েন্স না করার কারণে অনেক দেশ বিপদে পড়েছে। আর সেই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্যই আজকের এই সম্মেলন। আজকের এই সম্মেম্মলনে আমরা যেসকল জ্ঞান অর্জন করেছি সেগুলো আমাদের কর্ম ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজন। আজকে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে তার মাধ্যমে বিভিন্ন আইন। সংস্কার ও তৈরি করে দেশের পুঁজিবাজারের মানিলন্ডারিংয়ের মত সকল কিছু আমরা প্রতিহত করতে সক্ষম হব। কারণ আমরা একটি স্পর্শকাতর জায়গায় কাজ করি। আমাদের বা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে থেকে কোন কিছু হলেই সেটা বাজারে প্রভাব পড়তে দেখা যায়। তাই আমাদেরকে অনেক সাবধানতার সাথে কাজ করতে হবে। সকলে একসঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্যা ও আইন নিজেরাই সমাধান করে আমরা এই বাজারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করব। তার আগে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন চৌধুরী এবং CAMLCO প্রতিনিধির পক্ষ থেকে আইসিবি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন গাজী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, এসোসিয়েশন অব এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিঃ, পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের সকল Chief Anti Money Laundering Compliance Officer, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে CAMLCO সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রথম Working সেশনে সিডিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় “Digital Transformation in CMIS: AML/CFT Risk Management Strategies under the new Regulations in the Digital Era” বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআইইউ এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও এবং লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ লি. এর সিইও খন্দকার সাফাত রেজা। সম্মানের দ্বিতীয় Working সেশনে, Role of Senior Management and CAMLCOS in Implementing AML/CFT Regulatory Compliance Requirements” বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসি’র পরিচালক শেখ মাহবুব-উর-রহমান। সম্মেলনের শেষ Working সেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “Challenges of AML/CFT Compliance Requirements & Implementation of Effective Risk Based Approach”। ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় উক্ত সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি সিকিউরিটিজ পি. এর CAMLCO সাখাওয়াত হোসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএমবিএ’র প্রেসিডেন্ট মোঃ ছায়েদুর রহমান এবং শেলটেক ব্রোকারেন্স লিমিটেড এর সিইও। মোঃ মেসবাহ উদ্দিন খান। পরিশেষে, সম্মেলনের সভাপতি বিএসইসি’র কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম সকলকে ধন্যবাদ প্রদানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/নি.





























Recent Comments