ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মস্তিষ্ক মূলত চোখ ও কানের ভিতরের অংশ থেকে আসা সংকেতের ওপর নির্ভর করে। যখন আপনি গাড়ির গতির বিপরীত দিকে মুখ করে বসেন, তখন চোখ দেখে আপনি পিছনের দিকে সরে যাচ্ছেন, কিন্তু কানের অন্তকর্ণ অনুভব করে যে গাড়ি সামনের দিকে এগোচ্ছে। মস্তিষ্ক এই বিপরীত সংকেত পেয়ে বিভ্রান্ত হয়। এর কারণে শরীরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বমি ভাব শুরু হয়।
গাড়ির গতির দিকে তাকালে চোখ রাস্তা দেখতে পায়, ফলে কখন মোড় নেবে বা ব্রেক কষবে তা মস্তিষ্ক আগেভাগেই আঁচ করতে পারে। কিন্তু উল্টো দিকে বসলে এই পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তা থাকলে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা বাঁক নেওয়ার সময় শরীর তাল মেলাতে পারে না, মোশন সিকনেস বা বমি ভাব আরও বাড়ে।
ভ্রমণে বমি ভাব কমানোর কৌশল:
১. ভ্রমণের এক ঘণ্টা আগে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-অমিটিক ওষুধ (যেমন—ডমপেরিডোন বা ভমিট) সেবন করুন।
২. সামনের সিটে বসুন এবং জানালার বাইরে দূরের স্থির কোনো বস্তুর দিকে তাকান।
৩. মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলুন।
৪. আদা বা লেবু চুষে বা চুইংগাম চিবিয়ে বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. খুব খারাপ লাগলে চোখ বন্ধ করে সিটে মাথা হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিন।
৬. গাড়ির চলন্ত অবস্থায় উল্টো দিকে বসে মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলুন।
৭. বাসে চাকার ওপরের সিট এড়িয়ে মাঝখানের সিটে বসার চেষ্টা করুন, যেখানে ঝাঁকুনি কম অনুভূত হয়।
৮. পছন্দের গান শুনুন বা যাত্রীর সঙ্গে গল্প করুন, মনোযোগ অস্বস্তি থেকে সরাতে সাহায্য করবে।
এই ছোট কিছু কৌশল অনুসরণ করলে আপনার ভ্রমণকে আনন্দময় ও বমি-বিনা করতে পারবেন।
























Recent Comments