সোমবার, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeবিনোদনমাধুরী বললেন, ‘কেউই নিখুঁত নয়
spot_img
spot_img

মাধুরী বললেন, ‘কেউই নিখুঁত নয়

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সিনেমার নাম কেন ‘মা বেহেন’, শুরুতেই জানতে চাই। মাধুরী জানালেন, শুরুতে নাম শুনে তিনিও অবাক হয়েছিলেন, ‘পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী যখন গল্প শোনাতে এসে ছবির নাম বলেছিলেন, মনে করেছিলেন মজা করছেন। আমি হেসে বলেছিলাম, এ কী নাম! কিন্তু উনি একেবারে চুপ ছিলেন। তখন বুঝলাম, তিনি সিরিয়াস। সাধারণত সিঙ্গেল মাদারদের সমাজ আলাদাভাবে বিচার করে, বিশেষ করে তাঁরা যদি সমাজের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে না চলেন। মা হওয়া মানেই নিখুঁত হওয়া নয়। এই ছবি পরিস্থিতি ও মানুষের অপূর্ণতাকেই উদ্‌যাপন করে। গল্প শোনার পর আমার কাছে এই শিরোনাম একেবারে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে।’

তাঁর কথার সূত্রেই জানতে চাওয়া, বাস্তব জীবনে মাধুরী দীক্ষিত কি কোনো দিক থেকে অপূর্ণ? ‘অনেক বিষয়েই। আসলে কেউই নিখুঁত নয়। নিখুঁত হওয়ার চেষ্টায় আমরা শুধু আমাদের সেরাটুকুই দিতে পারি। আমিও সেটাই করে এসেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। সেটা নাচ হোক কিংবা অভিনয়। এই ছবির জন্যও আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে শুরু করে ভাষা—সবকিছুর ওপর কাজ করেছি,’ উত্তর দিলেন অভিনেত্রী।

ছবিতে মাধুরীর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৃপ্তি দিমরি। তবে মাধুরী জানান, এটা তাঁকে মোটেও অস্বস্তিতে ফেলেনি। কারণ, সিনেমাটিতে নারীদের ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নারীরা আদর্শবাদী নন, বরং বাস্তববাদী। সাধারণত ছবিতে পুরুষদের এভাবে দেখানো হয়। প্রথমবার নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘মা বেহেন’ রেখা এবং তার দুই মেয়ে জয়া ও সুষমার গল্প। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মাধুরী বললেন, ‘রেখা সিঙ্গেল মাদার। মানুষকে সামলানোর নিজস্ব প্রবৃত্তি রয়েছে তাঁর।

প্রচলিত অর্থে সাধারণ মা তিনি নন। তাঁর পরিবারও কিছুটা অগোছালো। এটি বলিউডের চেনা মা-মেয়ের গল্প নয়। তবে নিজের মেয়েদের জন্য তিনি সবকিছু করতে পারেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাকে এমন একটি চরিত্রে ভাবার জন্য নির্মাতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

হিন্দি সিনেমায় তাঁর প্রিয় মা চরিত্র কে জানতে চাইলে মাধুরী বললেন, ‘মাদার ইন্ডিয়া’য় নার্গিস, ‘দিওয়ার’–এ নিরূপা রায় থেকে ‘করণ অর্জুন’–এর রাখী গুলজারের করা চরিত্র—সবাই তাঁর প্রিয়।

বড় পর্দায় অনিয়মিত হলেও ওটিটিতে নিয়মিতই হাজির মাধুরী। সেই সূত্রেই প্রশ্ন, সিনেমার তুলনায় ওটিটিতে কি চাপ কম থাকে? ‘ওটিটিতে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে বক্স অফিসের অঙ্ক নিয়ে ভাবতে হয় না। ফলে মনোযোগ পুরোপুরি গল্প ও চরিত্রে দেওয়া যায়। এ সিনেমাতেও দর্শক এমন কিছু নারী চরিত্রে দেখেছেন, যাঁরা বাস্তব জীবনের মানুষের মতোই— ত্রুটি, দ্বন্দ্ব আর সংগ্রাম নিয়ে বেঁচে থাকা একেবারে সাধারণ মানুষ,’ বললেন মাধুরী।

জানালেন, এই সিনেমার শুটিংয়ের আগে দুই অভিনেত্রী তৃপ্তি ও ধর্নার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। নিয়মিত মহড়া ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে শুধু দৃশ্য নয়, একে অপরকেও কাছ থেকে চিনেছেন। সেই পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পর্কগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করেছে।

আলাপের শেষে আসে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। মায়ের কাজ নিয়ে মাধুরীর দুই ছেলের প্রতিক্রিয়া কী? উত্তরে অভিনেত্রী বললেন, ‘আমার কাজ দেখার পর প্রায়ই তাদের মতামত আমার সঙ্গে ভাগ করে নেয় দুই ছেলে। এই ছবিতে আমার উপস্থাপন একেবারেই আলাদা। তারাও সেটা মনে করে। তবে এখনো ওরা মা বহেন দেখেনি। দেখার পর নিশ্চয় প্রতিক্রিয়া জানাবে।’

মাধুরী জানান, ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পরও নতুন চরিত্রের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন তিনি। শেষ প্রশ্ন ছিল অনিল কাপুরের সঙ্গে তাঁর জুটি নিয়ে। বড় পর্দায় অনেক হিট ছবি দিয়েছে এই জুটি। পরিচালক সুরেশ আগে অনিল কাপুরকে নিয়ে ‘সুবেদার’ বানিয়েছেন, এবার মাধুরীকে নিয়ে মা বেহেন। তাঁর পরের ছবিতে কি মাধুরী–অনিলের পুনর্মিলন হবে? ‘কেন নয়! সুরেশ ত্রিবেণী যদি আমাদের দুজনকে নিয়ে নতুন এবং ভিন্ন কিছু ভাবেন, তাহলে অবশ্যই ভালো লাগবে,’ বললেন মাধুরী।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments