ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ১৭ জুন এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে হবে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম ছিল ৪ টাকা ৩০ পয়সা, যা ১৭ জুন বেড়ে ৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় ৫৮ শতাংশ।
এর আগে গত ২ জুন শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছিল ডিএসই। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম সানবিডিকে বলেন, রিজেন্ট টেক্সটাইলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো কারণ বা কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ডিএসইর কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের জানানো বাধ্যতামূলক হলেও কোম্পানিটি এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
রিজেন্ট টেক্সটাইল সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এরপর থেকে কোম্পানিটি আর কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারে রয়েছেন।
২০২০-২১ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮৬ কোটি টাকা। তবে ওই সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়ায় ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। আগের অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশও ঘোষণা করেনি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) তহবিলের ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগে কোম্পানিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রায় ৯০ কোটি টাকা (সুদসহ) কোম্পানিতে ফেরত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির ৯৬৪তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
বিএসইসির মুখপাত্র জানান, আইপিওর অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেড-এর ৯৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইপিও সম্মতিপত্রের শর্তের লঙ্ঘন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে রিজেন্ট টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ পরিচালককে জনপ্রতি ২০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।
জরিমানার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন: মো. ইয়াকুব আলী, মো. ইয়াসিন আলী, তানভীর হাবিব, মোশাররফ হাবিব এবং সালমান হাবিব।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments