ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে বীমা খাতে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দায়ে চার ব্যক্তি ও ১২ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজির গুঞ্জন থাকার পর জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় এনেছে কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগের আগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সুবিধামতো সময়ে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। ওই বছরের ৭ মে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৯০ টাকা, যা এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৩১ মে বেড়ে ২০১ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এক মাসের কম সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১১১ টাকা ৯০ পয়সা বা ১২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এ সময়ের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে শতরং অ্যাগ্রো ফিশারিজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কারসাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায় বিএসইসি। কারসাজির এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বন্ধু খাদ্যভাণ্ডারকে।
এ ছাড়া নাঈম অ্যাগ্রো ফার্মকে ৭৯ লাখ, শতরং অ্যাগ্রো ফিশারিজ লিমিটেডকে ৭৮ লাখ, কবির ট্রেডার্সকে ৫৫ লাখ, হৃদয় পোলট্রি ফার্মকে ৫৩ লাখ, সরকার অ্যাগ্রো ফার্মকে ৪৭ লাখ, আমানত অ্যাগ্রো ফিশারিজকে ৪৫ লাখ এবং হাসান নার্সারিকে ৪৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাসরিন রহমানকে ২৪ লাখ এবং উইন্ডো ডিজাইন পার্ককে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে মুক্তা ফিশারিজ, সাব্বির স্টোর, শাম্মী নেওয়াজ, আবু নাঈম, কামরুল হাসান মো. ইকবাল গনি এবং মিমোনা কসমেটিকস হাউজের প্রত্যেককে ১ লাখ করে ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সে হিসাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মোট জরিমানা করা হয়েছে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) ধারা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার অর্জন, অধিগ্রহণ ও কর্তৃত্ব গ্রহণ) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(১) লঙ্ঘনের দায়ে তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়। বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন কঠোর অবস্থানের ফলে বাজারে জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments