ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার বা ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্টস-বিওপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪ হাজার ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে কম। ফলে এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় ছিল ৬ হাজার ২৫ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে।
তবে রপ্তানি আয় কমলেও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি আয় কম থাকায় চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৭ কোটি ডলার।
তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। প্রথম ১১ মাসে সার্বিক বিওপিতে উদ্বৃত্ত হয়েছে ৪০১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল।
এ ছাড়া রাষ্ট্রের আর্থিক হিসাবেও (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ হিসাবে ৫৭ কোটি ডলারের ঘাটতি থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ৪১৬ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান এবং বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এ উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments