ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: এসেগেছে শীত, আর ভোরের আলোয় দেখা গেছে কুয়াশা।শীত বাড়ার সঙ্গে অনেকের বাড়ছে শীতজনিত নানা রোগ। ঠান্ডাকে মোকাবেলা করতে খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে পরিবর্তন। এ সময় খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে এমন কিছু খাবার যা খেলে শরীর গরম থাকবে সেই সাথে শীতকালে শরীরও থাকবে ঝরঝরে।

শীতে শরীর গরম রাখার মোক্ষম দাওয়াই হল জাফরান। গরম দুধে জাফরানের সঙ্গে কিশমিশ মিশিয়ে খেলে শরীর গরম হয়।
ডিম শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। ডিম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৫, বি১২, বি৬, ডি, ই, কে, ফোলেট, ফসফরাস, সেলিনিয়াম, ক্যালিয়াম ও জিংক। প্রতিটি ডিমের মধ্যে রয়েছে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন।
শীতের ডায়েটে পরিমিত মাত্রায় ঘি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ঘি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর। এই ফ্যাটি অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তাই বলাই যায়, ঘি ওজন বাড়াতে নয়, ওজন ঝরাতে কার্যকর। সেই সঙ্গে শরীর গরম রাখতেও সাহায্য করে ঘি।
মিষ্টি আলুতে রয়েছে শীত দূর করার ক্ষমতা। ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন সমৃদ্ধ মিষ্টি আলুকে বলা হয় সুপারফুড, যার রয়েছে দেহকে নানা ধরনের রোগ থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি শীত তাড়ানোর বিশেষ ক্ষমতা।
শীতকাল মানেই নলেন গুড়ের মৌসুম। গুড় খেলে কেবল হজমশক্তি ভাল হয় এমনটা নয়, শীতের রাতে শরীর উষ্ণ করতেও এর জবাব নেই। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রোগপ্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।
শীতের মৌসুমে তিলের লাড্ডু, বরফির চাহিদা বাড়ে। তিল শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। শীতকালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে ডায়েটে রাখতেই পারেন এই খাবার। মিষ্টি হিসাবে খেতে না চাইলেও সালাদে বা রান্নায় খেতে পারেন তিল।
দারুচিনি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। তাই শীতের মৌসুমে ডায়েটে বেশি করে দারুচিনি রাখতে পারেন। গরম দুধে হোক বা খাবারে, কিংবা কেক-কুকিজ়ে দারুচিনি পড়লে স্বাদও বাড়বে আর শরীরও গরম থাকবে।
শীত দূর করার জন্য খেতে পারেন স্যুপ বা স্টু। শীতের সন্ধ্যায় গরম গরম স্যুপের বাটি নিয়ে মজা নিন স্যুপের। এতে শরীর গরম হবে। ঠাণ্ডা দূর হবে নিমেষেই। স্যুপে একটু ঝাল যোগ করতেও ভুলবেন না যেন। এছাড়া স্যুপ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো।
শরীরের ঠান্ডা এড়াতে গরম পানীয় খাওয়ারের অন্য কোন বিকল্প নেই। শীতটা একটু বেশী লাগলেই চা, কফি বা পান করতে পারেন হট চকলেট কিংবা হট চকলেট মিল্ক। উপকার পাবেন সাথে সাথেই।
শীতে মেয়েদের পিরিয়ডের ব্যথায় যেহেতু চা, কফি থেকে বিরত থাকা ভালো, তাই এসময় গরম পানিতে আদা মিহিকুচি করে তার সঙ্গে লেবুর রস ও সামান্য লবন দিয়ে খেতে পারেন।

এছাড়াও আদা হজমের প্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে শরীরকে গরম করে। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এতে শীতের ঠাণ্ডা দূর হয়। খাবারে সামান্য আদা যোগ করুন। চায়ে, স্যুপে কিংবা খাবারে আদা দিয়ে খেতে পারেন।
সর্দি, কাশি, ফ্লু ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়তে অনন্য এক উপাদান মধু। মিষ্টিজাতীয় খাবার হলেও মধুতে নেই বাড়তি ক্যালরির ঝামেলা। এ ছাড়া শরীর গরম রাখতেও বেশ উপকারী।
সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কার্যকরী রসুন। পাশাপাশি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন তিন, চার কোয়া রসুন সরাসরি বা রান্নায় ব্যবহার করে খেতে পারেন।
আপনাকে ঘামিয়ে দিতে পেঁয়াজের বড় ভূমিকা রয়েছে। পেঁয়াজ শরীরকে গরম রাখার পাশাপাশি শীতজনিত অনেক রোগ থেকে মুক্তি দেয়।
খেজুর, অ্যাপ্রিকট ও অন্যান্য শুকনো ফল আপনার শরীরের যন্ত্রসমূহকে গরম ও স্বাভাবিক রাখে।
আপেলের স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার দুটোই আমাদের দেহের উষ্ণতা ধরে রাখতে সক্ষম। এতে রয়েছে প্রায় ৪.৪ গ্রাম ফাইবার। এ ছাড়াও রয়েছে ৮৬ শতাংশ পানি যার ফলে আমরা শীতে কম পানি পান করলেও আমাদের দেহকে সঠিকভাবে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করবে।
চিনাবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম ইত্যাদি ভালো কোলেস্টেরল, ভিটামিন, ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস। গরমজাতীয় খাবার বলে শীতে স্যাকস হিসেবে বাদাম খেতে পারেন।
শীতের ব্রেকফাস্টে প্রতিদিনই বাদাম এবং কিশমিশ রাখবেন। কারণ এই ধরনের খাবারগুলো সারা দিন শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে।
যে সব খাবারে কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমাণে বিদ্যমান সেসব খাবার ঠাণ্ডা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। কার্বোহাইড্রেট শরীরের থাইরয়েড ও অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি গুলোতে পৌঁছে শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন করে। এতে করে ঠাণ্ডা অনেকাংশে কমে যায়। আটার রুটি, ভাত, চিনি, ডাল এই সবই কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার।
খাসি ও গরুর মাংস শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে তা বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। খাসি বা গরুর মাংসে যাদের সমস্যা হয় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মৌ.
































Recent Comments