ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ।আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। ১৯২ দেশের মহামিলনের চেয়ে খেলোয়াড়দের কাছে বিশ্বকাপের ১২ দলের ‘সুপার টুয়েলভে’ লড়াইটাই বড় বাস্তবতা, যে বাস্তবতার মাটিতে আজ পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বাংলাদেশ দল পা রাখছে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

১৯৮০–৯০–এর দশকে খেলাটা যখন এত ডালপালা ছড়ায়নি, শারজা কাপের কারণে সেই তখন থেকে ক্রিকেটের সঙ্গে শারজার নাম জড়িয়ে। বাংলাদেশ দলও এর আগে দুটি উপলক্ষে এই মাঠে খেলে গেছে। প্রথমবার ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলেশিয়া কাপে। এরপর ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট। প্রতিপক্ষ ছিল কখনো অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড; কখনো ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের মতো দল। ওই সময়ের বাস্তবতায় বাংলাদেশের কাছে সবাই–ই ছিল ক্রিকেট পরাশক্তি। স্বাভাবিকভাবেই শারজায় দুইবারে পাঁচ ম্যাচ খেলে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের, বাংলাদেশের রানও কখনো ২০০ স্পর্শ করেনি।
সেই শারজায় বাংলাদেশ দলের এবারের আগমন আশার বেলুন উড়িয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ সুপার টুয়েলভের ম্যাচের আগে কাল সংবাদ সম্মেলনে আশার কথাটা শোনালেন বাংলাদেশ দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ‘উইকেটে বল রাখতে পারলে শারজার পিচে স্পিনারদের ভালো করার সম্ভাবনা আছে।’ অর্থাৎ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদের কাছে তাঁর বিশেষ কিছুই চাওয়া থাকবে আজ।
হ্যাঁ, সাকিব–মেহেদীর সঙ্গে স্পিন আক্রমণটাকে ত্রিশূল বানাতে নাসুমও একাদশে থাকছেন বলে খবর। টানা ম্যাচ হচ্ছে বলে শারজার উইকেটটাকে অনেকটা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের মতো মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের কাছে। সে কারণেই এই চিন্তা।
শারজার মাঠের বাউন্ডারি তুলনামূলকভাবে ছোট। বাংলাদেশ কোচের ইশারা সেদিকেও, ‘মেরে খেলা দল হিসেবে আমাদের তেমন খ্যাতি নেই। কাজেই এটা (ছোট বাউন্ডারি) আমাদের সাহায্য করতে পারে।’ ডমিঙ্গো অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নিতে হবে পাওয়ারপ্লের সুবিধাও। টি–টোয়েন্টি জয়ের প্রথম শর্তই যে বোলার–ব্যাটসম্যানদের প্রথম ৬ ওভারের দাবি মেটানো পারফরম্যান্স।
কিন্তু খেলাটা তো শ্রীলঙ্কাও খেলবে! শারজার আবহে নিশ্চয়ই তাদেরও প্রখর দৃষ্টি আছে। বিশ্বকাপের আগে আবুধাবিতে প্রস্তুতি ম্যাচের হার বাদ দিলে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির সম্মুখসমরে বাংলাদেশ যতই শ্রীলঙ্কাকে সর্বশেষ দুই ম্যাচে হারিয়ে থাকুক, শারজায় খেলার অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কারই বেশি তাজা। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটা এ মাঠে খেলে কী দাপুটে জয়ই না তুলে নিয়েছে তারা! নেদারল্যান্ডসকে মাত্র ৪৪ রানে অলআউট করে দিয়ে জয় ৮ উইকেটের।
শারজার মাঠ সম্পর্কে ডমিঙ্গোর বলা আরেকটি কথাও উল্লেখ না করলেই নয়, ‘লম্বা বোলাররা সব সময়ই এই উইকেটে ভালো করে। অনেক বছর আগে একবার দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে এখানে এসেছিলাম। মনে আছে মরনে মরকেল খুব ভালো বল করেছিল।’ তাসকিন আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশ দলে লম্বা বোলার বলতে আছেন শরীফুল ইসলাম। তাহলে কি তাঁকেও আজ দেখা যাবে দলে?
ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় বেলা দুইটায়। একাদশ নিয়ে ভাবনাচিন্তারও তাই যথেষ্ট সময় আছে টিম ম্যানেজমেন্টের হাতে। কাল যেটাকে সমূহ সম্ভাবনা মনে হয়েছে, আজ তাই সেটি বাস্তবেও না–ও ঘটতে পারে। খেলা বেলা দুইটায় শুরু বলে গরম একটা অস্বস্তি হতে পারে বাংলাদেশ দলের জন্য। যে কারণে কাল অনুশীলন থেকে দূরে থাকলেন সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও লিটন দাস।
অবশ্য শীতের শুরু বলে দুবাইয়ের তাপমাত্রা এখন কিছুটা সহনীয়। কাল রাতে ছিল ৩১ ডিগ্রি, দিনের বেলায়ও ৩৩–৩৪ ডিগ্রি ছাড়ায়নি। আর রাসেল ডমিঙ্গো তো দুপুরে খেলা হওয়ার সুবিধাই দেখছেন, ‘বেলা দুইটায় খেলা শুরু হবে বলে আমরা খুশি। শিশির এখানে প্রভাব ফেলবে না। আমার বিশ্বাস, আমাদের স্পিনাররা খুব ভালো করবে।’
স্পিনার শ্রীলঙ্কা দলেও আছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচে মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট নেওয়া লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকেই ভয়টা বেশি। ডমিঙ্গোর কথায়ও সেই সতর্কতা, ‘গত কয়েক মাসে আমরা হাসারাঙ্গার বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি। ওর সামর্থ্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে।’
বাংলাদেশের চিন্তা যখন হাসারাঙ্গা, শ্রীলঙ্কার দুশ্চিন্তায় হানা দেওয়া নামটি অবশ্যই সাকিব। অবশ্য লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নামটাও বলে জানালেন, বাংলাদেশের জন্য তাঁদের আছে নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা।
মাহমুদউল্লাহর দল কি পারবে সে পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে শারজায় আজ অন্য কিছু করতে?
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/দি.
































Recent Comments