ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন খাতের ১৪ কোম্পানি সমাপ্ত সময়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো: প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্রীণডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, গ্রামীণফোন, ইন্ট্রাকো রিফোয়েলিং, সিঙ্গার বাংলাদেশ, লাফার্জহোলসিম, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এশিয়া প্যাসিফিক ও সোনালী লাইফ।
প্রগতি ইন্স্যুরেন্স: চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল’২১-জুন’২১) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ২ টাকা ৫ পয়সা ছিল।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ২৬ পয়সা। সে হিসেবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়ায় ১ টাকা ৮৫ পয়সা।
দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৫ টাকা ৩৬ পয়সা, যা গত বছর ৪ টাকা ৫৬ পয়সা ছিল। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৫৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: দ্বিতীয় প্রান্তিকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয়সহ ইউসিবির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (Consolidated EPS) হয়েছে ৬৩ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ৪০ পয়সা ছিল। অন্যদিকে হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ৭২ পয়সা ছিল।
দুই প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল মাইনাস ৮ টাকা ১৫ পয়সা, যা গত বছর মাইনাস ৯ টাকা ৮৫ পয়সা ছিল। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩০ টাকা ৩৫ পয়সা।
গ্রীণডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রীণডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রথম প্রান্তিক
প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২০) ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় হয়েছে দশমিক ৮৫ পয়সা। আগের বছর একই সময় ফান্ডটি ইউনিট প্রতি দশমিক ০৭৫ পয়সা লোকসান করেছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর,২০২০ সমাপ্ত সময়ে ফান্ডটির বাজার মূল্য অনুযায়ী এনএভি হয়েছে ১০ টাকা ২৬ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিক
বছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর,২০) ফান্ডটি ইউনিট প্রতি আয় করেছে ০৭ পয়সা। আগের বছর একই সময় লোকসান ছিল দশমিক ৫৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ফান্ডটির বাজার মূল্য অনুযায়ী এনএভি হয়েছে ১১ টাকা ১৪ পয়সা।
তৃতীয় প্রান্তিক
বছরের ৯ মাসে ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে দশমিক ০৫৯৫ পয়সা। আগের বছর একই সময় দশমিক ৩৯৬৩ পয়সা লোকসান করেছিল। আলোচ্য সময়ে ফান্ডটির বাজার মূল্য অনুযায়ী এনএভি হয়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা।
ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড: প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২০) ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় হয়েছে দশমিক ৯৯ পয়সা। আগের বছর একই সময় ফান্ডটি ইউনিট প্রতি ১০ পয়সা লোকসান করেছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর,২০২০ সমাপ্ত সময়ে ফান্ডটির বাজার মূল্য অনুযায়ী এনএভি হয়েছে ১০ টাকা ৩৪ পয়সা।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক: দ্বিতীয় প্রান্তিকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয়সহ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (Consolidated EPS) হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ৪২ পয়সা ছিল।
অন্যদিকে হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ১ টাকা ছিল। দুই প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা, যা গত বছর ৪ টাকা ৭৯ পয়সা ছিল। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৮ টাকা ৫২ পয়সা।
গ্রামীণফোন: দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি আয় (Earning Per Share- EPS) হয়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৫.৩৮ পয়সা ছিল।
অন্যদিকে হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৮৯ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১৩ টাকা ৩০ পয়সা ছিল। দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২১ টাকা ৮৮ পয়সা, যা গত বছর ৬ টাকা ১৩ পয়সা ছিল। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৬ টাকা ৯৮ পয়সা।
ইন্ট্রাকো রিফোয়েলিং: তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২১-মার্চ’২১) কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩০ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৩ পয়সা।
এদিকে নয় মাসে (জুলাই,২০- মার্চ, ২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫১ পয়সা।
সিঙ্গার বাংলাদেশ: দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল’২১-জুন’২১) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৮৯ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ০.৮২ টাকা।
এদিকে ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.৬৯ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২.০২ টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা।
লাফার্জহোলসিম: দ্বিতীয় প্রান্তিকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয়সহ লাফার্জহোলসিমের সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (Consolidated EPS) হয়েছে ৯৬ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ২৮ পয়সা ছিল।
অন্যদিকে হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ৭৩ পয়সা ছিল। দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২ টাকা ৮২ পয়সা, যা গত বছর ১ টাকা ৬৯ পয়সা ছিল। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার: তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২১-মার্চ’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (EPS) হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। আইপিও পরবর্তী শেয়ার হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯৪ পয়সা।
অন্যদিকে চলতি হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ০৫ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।আইপিও পরবর্তী শেয়ার হিসাবে ৯ মাসে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ২ টাকা ৯০ পয়সা।
গত ৩১ মার্চ, ২০২১ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৭ টাকা ০৭ পয়সা। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার হিসাবে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা।
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক: দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল’২১-জুন’২১) কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.১৭ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) ছিল ০.২৩ টাকা।
এদিকে ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.৩২ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) ছিল ০.৩২ টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত সম্পদ (এনএভি) লোকসান হয়েছে ১৭ টাকা ৮৬ পয়সা।
এশিয়া প্যাসিফিক: হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল’২১-জুন’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ৯০ পয়সা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬৯ পয়সা আয় হয়েছিল।
অন্যদিকে হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক তথা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২১-জুন’২১) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানির আয় ছিল ১ টাকা ৫১ পয়সা।আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ২২ টাকা ৭৯ পয়সা।
সোনালী লাইফ: প্রথম প্রান্তিকে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে। আর লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের বছর একই সময় যার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৩ লাখ টাকা। আর লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ছিল ১০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম



























Recent Comments