ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতের সিনেমা যারা দেখেন, তাদের কাছে ‘থালাপতি বিজয়’ একটি আবেগের নাম। পর্দার সেই অ্যাকশন হিরো বাস্তবেই হয়ে গেলেন তামিলনাড়ুর হর্তাকর্তা।
এই হিরোর জীবনের শুরুর গল্প যদিও খুব একটা চমকপ্রদ নয়। কিন্তু সংগ্রাম হয়ে থাকবে ইতিহাস।
কেনই বা থাকবে না বলুন? কারণ ৪২ বছর আগে এই ছেলেটিই মাত্র ৫০০ রুপির পারিশ্রমিকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় অভিনেতা। সেই জনপ্রিয়তায় ভর করে তিনি এখন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী!
আরও অবাক করার বিষয় হলো, মাত্র দুই বছর আগে বিজয় গড়েছিলেন দল। সেই দলই দীর্ঘ ৫৯ বছরের ইতিহাস ভেঙে গঠন করেছে সরকার।
১৯৮৪ সালে নিজের বাবা এস.এ. চন্দ্রশেখরের ‘ভেত্রি’ নামের একটি সাদাকালো সিনেমায় মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান বিজয়। এরপর বাবার পরিচালনায় বেশ কিছু সিনেমায় ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থীরপু’ সিনেমায় প্রথমবার হিরো হিসেবে অভিনয় করলেও সিনেমাটি ফ্লপ হয়। সে সময় তার চেহারা ও অভিনয় নিয়ে চরম কটাক্ষ করেছিলেন সমালোচকরা।
তবে বিজয় দমে যাননি। ১৯৯৪ সালের ‘রাসিগান’ সিনেমার পর থেকে দর্শকরা তাকে ভালোবেসে ‘ইলাইয়া থালাপতি’ বা তরুণ সেনাপতি বলে ডাকতে শুরু করে।
২০০০ সালের পর বিজয়ের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। রোমান্টিক হিরো থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর অ্যাকশন হিরো। ‘গিল্লি’ এবং ‘পোক্কিরি’র মতো অল-টাইম ব্লকবাস্টার সিনেমা দিয়ে তিনি তামিল সিনেমার কিংবদন্তি রজনীকান্ত এবং অজিত কুমারের সমকক্ষ তারকা হয়ে ওঠেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ‘থুপ্পাক্কি’, ‘কাথথি’, ‘থেরি’, ‘মাস্টার’ এবং ‘লিও’র মতো সিনেমাগুলো বক্স অফিসে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।
আরও পড়ুন
বিজয় জানতেন তার শক্তির আসল উৎস ভক্তরা। ২০০৯ সালে তিনি তার ফ্যান ক্লাবগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে চালু করেন ‘বিজয় মক্কাল ইয়াক্কাম’ নামের একটি সেবামূলক সংগঠন।
এরপর ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম’ গঠনের ঘোষণা দেন। রাজ্যজুড়ে থাকা লাখ লাখ ভক্তকে তিনি এক নিমেষে বদলে ফেলেন তার রাজনৈতিক কর্মী বাহিনীতে।
অভিনেতা হিসেবে তার শেষ সিনেমা ‘জানা নায়াগান’-কে রূপালি পর্দা থেকে তার বিদায়ী উপহার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কারণ, কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলে ছেড়ে দেবেন সিনেমা। রাজনীতিতে নামার কারণে এই ঘোষণাও দিয়েছিলেন বিজয়।
গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে স্মরণকালের রেকর্ড ভোট পড়ে। আর গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল আসতেই পুরো ভারত চমকে যায়। বিজয়ের নতুন দল টিভিকে প্রথমবার ভোট লড়েই ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে নেয়।
বিজয় নিজে যে দুটি আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন, দুটিতেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। এমনকি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন নিজের আসনেই যান হেরে!
সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১১৮টি আসন থেকে মাত্র ১০টি আসন কম ছিল বিজয়ের। কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনার পর কংগ্রেস পার্টি বিজয়ের দলকে সমর্থন দেয়। অবশেষে গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সবার প্রিয় ‘থালাপতি’ বিজয়।
সিনেমার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে সফল হওয়ার ঘটনা তামিলনাড়ুতে নতুন নয়। এর আগে এম.জি. রামচন্দ্রন এবং জয়ললিতার মতো মহাতারকারাও সিনেমা থেকে এসে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজের মাঝে বিজয়ের তুমুল জনপ্রিয়তা, চমৎকার ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের ইচ্ছাই বিজয়কে আজ এই চেয়ারে বসিয়েছে।
৫০০ রুপির সেই ছোট শিশুটি আজ কোটি মানুষের ভাগ্যবিধাতা। আজ তার জন্মদিন।
বিজয়ের এই অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধ সিনেমা জগতের তো বটেই, রাজনীতির ইতিহাসেও এক রূপকথা হয়ে থাকবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments