ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমরা অনেকেই হয়তো এখন তিশি নামটির সাথে পরিচিত নই, আবার অনেকে ভলোভাবেই এই নামটির সাথে পরিচিত। কিন্তু অনেকেই জানেন না এর গুণাগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, তিশি অত্যন্ত উপকারি একটি শস্য। যা নানান স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর।

তিশির স্বাস্থ্যগুণ-
* বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে তিশি। খাদ্য হজমে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মেদ কমায়।
* তিশির মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট ব্লাড ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* গ্যাস্ট্রিক ও আলসার দূর করে এবং অ্যাজমা থেকে রক্ষা করে।
* যারা তামাক বা অন্য নেশায় আক্রান্ত থাকে তাদের জন্য তিশি খুবই উপকারী। এটি নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন খাওয়ার পর অল্প পরিমাণ তিশি চাবালে দ্রুত নেশা থেকে মুক্তি পেতে পারেন একজন রোগী।
* যারা হাই ব্লাডপ্রেসারের রোগী তারা তাদের খাদ্য তালিকায় তিশি রাখতে পারেন। প্রতিদিন ২চামচ তিশির পাউডার এর জন্য যথেষ্ট। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও এমাইনো এসিড বিপি কমাতে সহায়তা করে।
* তিশি আমাদের হৃদপিণ্ডকে সবল রাখতে কাজ করে। হার্টে ব্লক বা ইরেগুলার হার্টবিট রোধ করতেও অনেক সাহায্য করে।
* গবেষণা থেকে জানা গেছে, তিশি আমাদের শরীরের HDL গুড কোলেস্টোরাল বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টোরালকে কমায়। অর্থাৎ এটি আমাদের কোলেস্টোরালকে নিয়ন্ত্রণ করে।
* যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের জন্য অনেক উপকারি এই তিশি। ভালো ফল পেতে দৈনিক অন্তত ১৫-২০গ্রাম তিশি সেবন করতে পারেন। আর যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা যদি এটি গ্রহণ করেন তবে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
* তিশি আমাদের হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর করে। মেজাজ ফুরফুরে রাখে।
* এটি আমাদের শরীরের ক্যলসিয়াম লেভেল বাড়ায়। ফলে হাড় ও শরীরের জয়েন্টগুলো সুস্থ থাকে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড্ডিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
* তিশি বীজ মেয়ে এবং ছেলেদের fertility বাড়ায়। এমন কি মেনোপোজের সময় ব্যথা দূর করতেও তিশি অনেক উপকারী।
* তাছাড়াও তিশি আমাদের চুল ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শস্য। এটি মুখের বলিরেখা প্রতিরোধ করে, চুল পড়া রোধ করে, ত্বককে মসৃণ রাখে, ত্বক উজ্জ্বল রাখে, যৌবন ধরে রাখে। এটি ব্রণ ও যেকোন চামড়া জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করে। এটি মাথায় খুশকি হতে দেয় না এবং মাথার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ঠিক রাখে।
উল্লেখ্য, নিয়ম করে তিশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবি ভালো। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় তিশি খাওয়া উচিৎ নয়। তিশিকে খাওয়ার জন্য একে ভেজে নিতে হবে। এটির পাউডার তৈরি করেও খেতে পারেন। তাছাড়া ভর্তা করে ভাতের সাথেও খাওয়া যায় তিশি। প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে বা সকালের নাস্তার সাথে খাওয়া ভালো। তবে রাতে খেলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়। প্রতিদিন ছোট চামচের এক চামচ তিনি যথেষ্ট স্বাস্থ্যের জন্য।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এস.
































Recent Comments