শুক্রবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাঅলস পড়ে নষ্ট হচ্ছে ২৮৩ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র
spot_img
spot_img

অলস পড়ে নষ্ট হচ্ছে ২৮৩ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমানো ও দেশেই প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে তৈরি করা হয়েছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। তবে ১ বছর ৯ মাস পার হলেও হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যায়নি। জনবল সংকটে রোগ নির্ণয়ে কেনা ২৮৩ কোটি টাকায় আধুনিক চিকিৎসাযন্ত্র অলস পড়ে আছে। মৌলিক পরীক্ষায় হাতেগোনা কয়েকটি যন্ত্র কালেভদ্রে ব্যবহার হলেও আদতে স্বল্পমূল্যের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন জরুরি চিকিৎসাযন্ত্র এভাবে পড়ে থাকলে ব্যবহারের আগেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ভুল ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চাহিদার ৮৬ শতাংশ কম জনবল দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বিশেষায়িত এ হাসপাতাল। নিয়োগ জটিলতা না কাটলে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএসএমএমইউ সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ খরচ হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০৩ রকমের ৬ হাজার ৬১২টি চিকিৎসাযন্ত্র কেনা হয় ৩৩ মিলিয়ন ডলারে। সে সময় ১ ডলারের মূল্য ছিল ৮৬ টাকা। সে হিসাবে এ যন্ত্র কিনতে টাকা লেগেছিল ২৮৩ কোটি। এসব যন্ত্রপাতি ২০২২ সালের আগস্ট ও ডিসেম্বরে দুই ধাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করে দক্ষিণ কোরিয়ান বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। যন্ত্রগুলো সেবার উপযোগী থাকলেও জনবল না থাকায় ৯০ শতাংশ যন্ত্রপাতি এক দিনও ব্যবহার হয়নি। এসব যন্ত্রের সর্বোচ্চ মেয়াদ রয়েছে তিন বছর। ফলে ব্যবহারের আগেই শেষ মেয়াদের প্রায় দুই বছর। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জনবল সংকটের সমাধান না হলে যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণে নতুন করে টাকা খরচ করতে হবে সরকারকে।

এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য এমনিতেই কম বরাদ্দ পায়। এ বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার হয় না। বিশেষ করে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ২৮৩ কোটি টাকার যন্ত্রে মানুষের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। যন্ত্র ক্রয়ে দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা দেখা উচিত। আশা করি, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব দুর্নীতির বাইরের লোক। তিনি এ যন্ত্র সচলে ব্যবস্থা নেবেন।

গত শনিবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তালা ঝুলছে। এছাড়া ১০০ শয্যার জরুরি ইউনিট, ছয়টি ভিভিআইপি, ২২টি ভিআইপি ও ২৫টি ডিলাক্স কেবিনের কোনোটিই ব্যবহার হচ্ছে না। উদ্বোধনের পর কিছুদিন বেশ কিছু অস্ত্রোপচার হলেও এখন তাও বন্ধ।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে এ হাসপাতালে ভর্তি হন পুরান ঢাকার মহসিন আলী। তাঁকে সিবিসি, ব্লাড কালচার ও ইউরিন কালচার পরীক্ষা দেওয়া হয়। তবে এ পরীক্ষার দুটিই করতে হয়েছে পাশের হাসপাতালে। মহসিন বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলে পরামর্শ দিচ্ছেন মেডিকেল অফিসার। এ হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্র থাকার পরও কেন বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হবে? কেন দ্বিগুণ টাকা রোগীকে গুনতে হবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিক হাসান তিন বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নেওয়ার জন্য গত এপ্রিল থেকে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয় এ হাসপাতালে। তবে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না হওয়ায় অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরে তিনি ভারতের এক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ৩৯ রোগী ভর্তি আছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে ৫০০ জনের সেবা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন সেবা পান মাত্র ১২৫ রোগী। হাসপাতালে পড়ে থাকা যন্ত্র সচল রাখতে এক্সক্লুসিভ হেলথ চেকআপ চালু হয় গত জানুয়ারিতে। তবে ছয় মাসে এ সেবা নিয়েছেন মাত্র ৫৮ রোগী।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বলেন, আরটিপিসিআর মেশিনটি সচল রাখতে পরীক্ষামূলকভাবে চায়না কিট ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এসব যন্ত্র দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। জনবল নিয়োগে বারবার চিঠি দিলেও কোনো অগ্রগতি নেই।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ল্যাবের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন বিএসএমএমইউর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মাসুম আলম।

তিনি বলেন, কোরিয়ার মেশিনে চায়না কিট ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই।সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আচার-আচরণে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে সেবা চালু করার অনুরোধ করে দেশটির সরকার চিঠিও দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এটির মতো আরও একটি হাসপাতাল তৈরি করে দিতে চায় কোরিয়া। তবে এ হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না করে ওই হাসপাতালের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments