ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: কায়িক শ্রমের অভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অসংক্রামক রোগ। এমন ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের আড়াইশ কোটি মানুষের এক-তৃতীয়াংশ কায়িক পরিশ্রম করে না। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যে। বাড়ছে ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগ, মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিসের মতো বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। তবে বাংলাদেশে ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ এ ঝুঁকিতে, যা মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৫ জুন বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’-এ গবেষণা প্রকাশ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শারীরিক পরিশ্রমের জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রবণতা দেখতে এ জরিপ করা হয়।
২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এক যুগে বাংলাদেশসহ ১৬৩টি দেশ ও এলাকার ৫০৭টি জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ থেকে ৫৭ লাখ মানুষের উপাত্ত ব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জেনেভার সদরদপ্তরের অসংক্রামক রোগ, পুনর্বাসন এবং ডিজঅ্যাবিলিটি বিভাগের উদ্যোগে গবেষণাটি করা হয়।
এতে দেখা গেছে, কায়িক শ্রমের অভাবে অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। এ ছাড়া অত্যধিক ক্লান্তির মতো শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা, মুটিয়ে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্বব্যাপী এমন মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৪৮ কোটি। ২০২২ সালে বিশ্বে কায়িক শ্রম না করা মানুষের হার ছিল ৩১.৩ শতাংশ। ২০০০ সালে ছিল ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ১২ বছরে বিশ্বে কায়িক শ্রম না করার হার বেড়েছে ৮ শতাংশ। ১৯৭টি দেশের মধ্যে ৯টি অঞ্চলের কায়িক শ্রম না করা মানুষের হার সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় ৬৭ শতাংশ মানুষ কায়িক শ্রম করে না। এ ছাড়া ১০৩টি দেশে ৫২ শতাংশ মানুষ কায়িক শ্রম করে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে কায়িক শ্রম না করার হার বেশি। নারী ৩৩.৮ শতাংশ এবং পুরুষ ২৮.৭ শতাংশ কায়িক পরিশ্রম করে না। তবে বিশ্বের দুটো অঞ্চল– ওশেনিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ কায়িক শ্রমে সঠিক পথে এগোচ্ছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, জনগণকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করাতে কোনো দেশই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। এ জন্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি নিতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় বাড়তি চাপ কমাতে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, কায়িক পরিশ্রম বলতে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ভারী কাজ, ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ভারী কাজ অথবা এ দুটো মিলিয়ে সমপরিমাণ কাজ না করাকে অপর্যাপ্ত পরিশ্রম বোঝায়।
এই গবেষণার সহ-গবেষক হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৯ ভাগের বেশি মানুষ কায়িক শ্রম করেন না। এভাবে চললে ২০১০ সালের তুলনায় বিশ্বে অপর্যাপ্ত পরিশ্রমকারী মানুষের হার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, সব বয়সের মানুষকে অবশ্যই হাঁটা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা, সাঁতার কাটার মতো শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এই কাজ একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, অতিমাত্রায় মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বাদ দিতে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এসবের ফলে শুধু ব্যক্তির শরীর ও মন ভালো থাকবে; সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
























Recent Comments