ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিনে ৫০ শতাংশের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করা রয়েছে। এছাড়া লেনদেনের দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের শেয়ার দরের ৫০ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার রাখার নিয়ম করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এই আইপিওতে সার্কিট ব্রেকার রাখা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উভয় সংকট তৈরি হয়েছে।

সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আগে লেনদেনের প্রথম দিনে শেয়ার দরের কোন লিমিট না থাকায় কারসাজি চক্র ইচ্ছে মতো দর বাড়িয়ে পরবর্তীতে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে বেরিয়ে যেতো। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু সার্কিট ব্রেকার থাকার কারণে সহসাই সে সুযোগ পাওয়া যায় না। এতে বিনিয়োগকারীরা যৌক্তিক দরে শেয়ার কিনে নিতে পারেন।
অন্যদিকে প্রাইমারি মার্কেটের অর্থাৎ আইপিও’র বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আইপিও শেয়ার লেনদেনে প্রথম দিন সার্কিট ব্রেকার থাকার কারনে আইপিও বিজয়ীরা তেমন লাভের মুখ দেখেন না। প্রথম দিনে একটা কোম্পানি মাত্র ৫০% বাড়তে পারে। এতে করে অনেক ভাল মানের কোম্পানি আইপিতে আসতে চাইবে না। আর সাধারণ বিনিয়োগকারিরা আইপিও আবেদন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। কারন আইপিও করে কোন লাভ হচ্ছে না।
মো: সোহেল নামে প্রাইমারি মার্কেটের একজন বিনিয়োগকারী জানান, একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর একটি বিও’তে প্রতিটি আইপিও আবেদন করলে ১০ টাকা কমিশন কাটছে হাউজ, প্রতিবছর সিডিবিএল চার্য কাটছে ৪৫০ টাকা, ব্যাংক একাউন্টে ৬৯০ টাকাসহ প্রতিটা বিও’তে বছরে খরচ ১১৫০ টাকা। আইপিও’তে একটি বিও’তে বছরে ৫০০ টাকা লাভের মুখ দেখা যায় না। শুধু এ বছর প্রায় ২ লাখ বিও বন্ধ হয়ে গেছে। যার মূল কারণই হচ্ছে আইপিওতে সার্কিট ব্রেকার। আর লাখ লাখ বিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাউজ তথা পুঁজিবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান নতুন কমিশন দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অনেক জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আশা করছি, শুধুমাত্র সেকেন্ডারি নয় প্রাইমারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেও কমিশন কাজ করবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি
























Recent Comments