ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্বাগতিক সমর্থকদের প্রবল সমর্থন, দাপুটে পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ সময় একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারল না মেক্সিকো। নাটকীয় এক ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক দেশটি। অন্যদিকে দুর্দান্ত এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। তবে পাল্টা আক্রমণে কার্যকর ফুটবল খেলেই প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ইংলিশরা ব্যবধান বাড়ালেও পরে লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গোল শোধ করলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। ৬৭ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৯টি শট নেয় তারা, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মাত্র পাঁচটি শট নিয়েও চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। সেই কার্যকর ফুটবলই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় তাদের।
ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমার্ধেই মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। পরে হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন। মেক্সিকোর হয়ে বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান কমান হুলিয়ান কুইনোনেস।
৫৪তম মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে কঠোর ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় থমাস টুখেলের দলকে। পরে কেইনের ফাউলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন রাউল হিমিনেজ। তবে শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল না খেলেও এই ম্যাচে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের জবাব দিতে পারেনি মেক্সিকো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটি এবার শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠলেও কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হলো না।
১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা ছিল মেক্সিকোর। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙে গেল ইংল্যান্ডের কাছে হেরে। এর মধ্য দিয়ে টানা নবমবারের মতো নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো মেক্সিকোকে।
এদিকে ১৯৬৬ সালে উদ্বোধন হওয়া আজতেকা স্টেডিয়ামে এটি মেক্সিকোর মাত্র তৃতীয় প্রতিযোগিতামূলক হার। এর আগে ২০০১ সালে কোস্টারিকা এবং ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের কাছে একই ব্যবধানে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল তারা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments