সোমবার, ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকইসরায়েলের নির্বাচনে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন, চাপে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা
spot_img
spot_img

ইসরায়েলের নির্বাচনে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন, চাপে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিবি’ ছাড়া অন্য কাউকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত হবে। নেতানিয়াহু ক্ষমতায় না থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই লড়তে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ সমর্থন’ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ডাকনাম উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো নিরাশ করবেন না।’

পোস্টে নেতানিয়াহুকে একজন ‘মহান লড়াকু প্রধানমন্ত্রী’ এবং ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘শান্তির বড় অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য অবস্থানকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন জানালেও ইসরায়েলের নির্বাচনে ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এবং গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েক মাসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা তিনি ভাবেননি। তবে এর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নেতানিয়াহুর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেন তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা। সমর্থন ঘোষণার সাত মিনিটের মধ্যেই ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, অসাধারণ সমর্থন ও যৌথ কাজের জন্য ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট।

হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প আগামী দুই বছর বা তারও আগে ইরানের হুমকি নির্মূলের কাজ সম্পন্ন করবেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কাজ করাকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন তিনি।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বলেছেন, ট্রাম্পকে তাঁরা সম্মান করেন, তবে ইসরায়েলের নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির জনগণ।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ইরানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো। কিন্তু বর্তমানে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ ইসরায়েলের নেতৃত্বে এলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান কাজ যুক্তরাষ্ট্রকে একাই করতে হতে পারে। তবে তিনি এককভাবে সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলে জানান।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু দৃঢ়তা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, কঠিন পরিস্থিতিতেও নেতানিয়াহু ভেঙে পড়েননি, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছেন।

ট্রাম্পের সমর্থন এমন এক সময়ে এল, যখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হতে পারে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট।

রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর ইচ্ছা তাঁর আগে থেকেই ছিল। তবে খুব আগেভাগে সেই ঘোষণা দিতে চাননি তিনি। নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে দুই নেতা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

ইসরায়েলের নেতৃত্বে এমন কাউকে থাকা জরুরি, যাঁর ওপর দেশটির জনগণ আস্থা রাখতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো নেতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো পারব, হয়তো পারব না। কিন্তু সেই ঝুঁকিটাই বা কে নিতে চায়?’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়েও দুই সপ্তাহ আগে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও পরে এ বিষয়ে দ্বিধায় পড়েন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এদিকে রোববারের পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের ‘বাকি কাজটুকুও শিগগিরই শেষ করার’ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের পর ইরানে হামলার অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক অবস্থান এবং ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments