ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ভারতীয় সিনেমায় তারকা অনেকেই হন, কিন্তু সবাই সুপারস্টার হয়ে উঠতে পারেন না। আর সুপারস্টারদের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাদের উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দা দখল করার ক্ষমতা আলাদা মাত্রা তৈরি করে। সেই তালিকায় অন্যতম নাম থালাপতি বিজয়।
আজ ৫২ বছরে পা দিলেন এই নায়ক। তবে অভিনয়ের চেয়ে এখন রাজনীতির ময়দানে বেশি সক্রিয় তিনি। সম্প্রতি তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও তার সিনেমার দৃশ্য, সংলাপ এবং স্টাইল নিয়ে আলোচনা থামেনি। গত এক দশকে তার অভিনীত কয়েকটি চরিত্র এমনভাবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে, যা তাকে সেরাদের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জেডি– মাস্টার (২০২১)
‘মাস্টার’ সিনেমায় জেডি চরিত্রে বিজয়ের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কলেজ নির্বাচনের এক দৃশ্যে শুধু একটি নির্দেশ (ওয়ান দ্য স্টারবোর্ড) দিতে পুরো ক্যাম্পাস তার কথায় সাড়া দেয়। মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, কেন তিনি সবার নেতা। এই দৃশ্যটি দেখায়, কীভাবে একজন অভিনেতা কেবল শরীরী ভাষা দিয়েই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতে পারেন।
মাইকেল রায়াপ্পান – ‘বিগিল’ (২০১৯)
‘বিগিল’-এ বিজয়ের দ্বৈত চরিত্রের মধ্যে মাইকেল রায়াপ্পানকে অনেকে তার সবচেয়ে ভয়ংকর এবং প্রভাবশালী অবতার বলে মনে করেন। বয়সের ছাপ, কঠিন দৃষ্টি এবং গ্যাংস্টারসুলভ ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে চরিত্রটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। সিনেমার এক দৃশ্যে শত্রুদের এলাকায় ঢুকে প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করেন তিনি। এরপর কোনো ভয় বা উদ্বেগ ছাড়া সেখান থেকে চলে যান। তার আত্মবিশ্বাস এবং পর্দা জুড়ে থাকা উপস্থিতি তাকে ভক্তদের কাছে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
ডিসিপি এ. বিজয় কুমার – ‘থেরি’ (২০১৬)
‘থেরি’ সিনেমায় বিজয় ছিলেন একজন সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃশ্যে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার পর দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে বিজয় কুমার যখন অপরাধীকে নিজের মতো করে শাস্তি দেন, তখন সেটা দর্শকদের কাছে এক ধরনের ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তার শান্ত কিন্তু দৃঢ় আচরণ চরিত্রটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। অনেক ভক্তের মতে, এটি বিজয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র।
লিও দাস– ‘লিও’ (২০২৩)
‘লিও’ সিনেমা মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে লিও দাস চরিত্রটি। সিনেমার দ্বিতীয়ার্ধে যখন চরিত্রটির আসল পরিচয় প্রকাশ পায়, তখন পুরো গল্পের আবহ বদলে যায়। প্রতিপক্ষের দিকে বন্দুক তাক করে নিজের থিম সং গাইতে গাইতে এগিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাসী সংলাপ এবং ভয়হীন আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে লিও দাস হয়ে ওঠে আধুনিক তামিল সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র। বিশেষ করে ‘সেদিন তোমাকে মেরে ফেলা উচিত ছিল’ সংলাপটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ভেত্রিমারান – ‘মেরসাল’ (২০১৭)
‘মেরসাল’ সিনেমায় ভেত্রিমারানের পরিচয় দৃশ্যটি এখনও বিজয় ভক্তদের অন্যতম প্রিয় মুহূর্ত। চরিত্রটির মধ্যে যেমন ছিল এক ধরনের রাজকীয় সৌন্দর্য, তেমনি ছিল শক্তি ও আত্মবিশ্বাস। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং বিপদের সময় শক্ত অবস্থান—সব মিলিয়ে ভেত্রিমারান ছিল বিজয়ের আদর্শ ‘ম্যাস হিরো’ রূপ।
ভীরারাঘবন– ‘বিস্ট’ (২০২২)
‘বিস্ট’ সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ভীরারাঘবন চরিত্রে বিজয়ের উপস্থিতি ছিল প্রশংসিত। কালো স্যুট পরে একটি শপিং মলের ভেতরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে একটি ছোট মেয়েকে চোখ বন্ধ করতে বলে সন্ত্রাসীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি তার স্টাইল ও আত্মবিশ্বাসের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
সুন্দর রামাসামি– ‘সরকার’ (২০১৮)
‘সরকার’ সিনেমায় একজন সফল এনআরআই ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নামেন বিজয়। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার ভোট অন্য কেউ দিয়েছে, তখন পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। সিনেমা বিভিন্ন সংলাপ ও দৃশ্যে তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে বাস্তব রাজনীতিতে তার প্রবেশের পর অনেকে ছবিটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পেয়েছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট ছবি উপহার দিয়েছেন বিজয়। প্রতিটি চরিত্রই প্রমাণ করে, শুধু অভিনয় নয়, পর্দা নিজের করে নেওয়ার এক বিরল ক্ষমতা রয়েছে তার।
বর্তমানে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করলেও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। অনেকের মতে, সিনেমার পর্দা ছেড়ে দিলেও বিজয়ের ‘অরা’ এখনও আগের মতোই অটুট। সিনেমা হলের শিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড কিংবা ভক্তদের স্মৃতিতে—থালাপতি এখনও সমানভাবে রাজত্ব করছেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments