ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচও বেড়েছে। এলপিজির দাম একসময় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছিল। পরে দাম কমানো হলেও বেসরকারি বাজারের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে অনেক ভোক্তা নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেননি।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও জ্বালানি খাতের আরও কিছু অংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারের দাবি, সিস্টেম লস বা ঘাটতি কমানো এবং জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, তৃতীয় এফএসও স্থাপনের জন্য একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও ইতিবাচক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সরকারের এই পরিকল্পনা কতটা জনস্বার্থবান্ধব ও কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় পুরোপুরি বেসরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় এখনো আসেনি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের অঞ্চলে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে বিল আদায় আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে এলপিজি খাতে যে ধরনের অনিয়ম ও বাজার নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা গেছে, বিদ্যুৎ খাতেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় সেবা; এগুলোকে কেবল মুনাফাভিত্তিক পণ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত যত বেশি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে সীমিত মুনাফার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, ততই জনস্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। তাই এসব খাত পুরোপুরি বেসরকারিকরণের পরিবর্তে সরকারের অধীনেই রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিলেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর তদারকি এবং ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments