ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা টানানো হয়। সেখানে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
হঠাৎ এই ছাঁটাইয়ের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
কারখানাটির এক কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলী এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে শুধু এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজেই প্রায় ৫০০ স্থায়ী এবং প্রায় ২০০ অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। অন্যান্য কারখানাগুলোতে মিলিয়ে আরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন। আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কারখানাগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। এবার শ্রমিক-কর্মচারীদের অব্যাহতি দেওয়ার পর সবগুলো প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী বলেন, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়, এটি প্রায় দুই বছরের পরিচালনগত সংকটের চূড়ান্ত পরিণতি।
তিনি বলেন, কোম্পানির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার পর গত বছরের আগস্ট থেকে কারখানাগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়ে। গুদামে থাকা সীমিত কাঁচামাল ব্যবহার করে এতদিন উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে।
হাসমত আলী আরও জানান, উৎপাদন সীমিত বা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও গ্রুপটি এক বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করেছে। কয়েক মাস আগে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে কেউ ৭ লাখ টাকা, কেউ ১৫ লাখ টাকা এবং কেউ গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুবিধাসহ ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।
বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য কারখানা এবং আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে গ্রুপটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু রয়েছে।
শ্রমিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুযোগ করে দেয়, তবে উৎপাদন আবার শুরু হতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments