মফস্বলের এক গ্রামে দুই বন্ধু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করল।
প্রথমজন সব সময় ভাবত—“আমি যে দামে শেয়ার কিনেছি, অন্তত ওই দামে বিক্রি না করলে তো লোকসান হবে!” তাই সে লোকসান দেখেও শেয়ার আঁকড়ে ধরে বসে থাকত। মনে করত—একদিন না একদিন দাম আবার আগের জায়গায় ফিরবেই।
অন্যজন একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করত। সে বলত—“আমার কেনা দামের কোনো দাম নেই বাজারের কাছে। আসল প্রশ্ন হলো—আজকের দিনে এই কোম্পানির ভবিষ্যৎ কেমন? আমি যদি আজ নতুন করে ভাবি, এই দামে শেয়ার কিনতাম কি না?” উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে সে শেয়ার ধরে রাখত, এমনকি আরও কিনত। আর উত্তর যদি না হয়, তাহলে সে বিন্দুমাত্র দেরি না করে শেয়ার বিক্রি করে অন্য ভালো সুযোগ খুঁজত।
এখানেই পার্থক্য:
প্রথম বন্ধু আবেগে আটকে গিয়েছিল। সে লোকসান মেনে নিতে চাইত না। কিন্তু শেয়ারবাজার আপনার পুরনো দামের তোয়াক্কা করে না। দাম আরও পড়ে গেলে ছোট লোকসান বড় ক্ষতিতে পরিণত হয়। এটিই হলো “অ্যাঙ্করিং”—অতীতের দামে আটকে থাকা, বা “সাঙ্ক কস্ট”—যে টাকা হারিয়েছেন তা ফেরত আসবে ভেবে বসে থাকা।
দ্বিতীয় বন্ধু দেখল ভবিষ্যতের দিকে। কোম্পানির আয়, প্রতিযোগিতা, বাজারের অবস্থা—এসব দেখে সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজের ক্ষতি ছোটতেই কাটল, আবার ভালো কোম্পানিতে টাকা ঢুকিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি করল। এই শৃঙ্খলাবদ্ধ চিন্তাই সফল বিনিয়োগকারীর মূল অভ্যাস।
তাহলে প্রশ্ন হলো—আমাদের কী করা উচিত?
👉 শেয়ার রাখবেন কি বিক্রি করবেন, তার উত্তর খুঁজুন এই প্রশ্নগুলোতে—
১. কোম্পানির ভবিষ্যৎ কি খারাপের দিকে যাচ্ছে?
২. অন্য কোনো ভালো সুযোগ আছে কি?
৩. দাম কি আসল মূল্যের তুলনায় খুব বেড়ে গেছে?
৪. আপনার পোর্টফোলিওতে এই শেয়ারের অনুপাত কি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে?
মনে রাখবেন, অতীতের দাম আপনার আবেগের বিষয়, বাজারের নয়। বাজার সব সময় ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে চলে। তাই একজন বিচক্ষণ বিনিয়োগকারী হোন, অতীতের ভুলের সংগ্রাহক নন।
অল্প কথায়—
- আবেগেআটকে থাকা মানে খারাপ সিনেমা জোর করে শেষ করা, কারণ টিকিটের দাম দিয়েছেন।
- আরযুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে মাঝপথে উঠে বেরিয়ে এসে নতুন ও ভালো কিছু দেখা।
যে বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তিনিই দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়।
লেখক: মো: আনোয়ার হোসেন
























Recent Comments