ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আধুনিক কর্মজীবনে ডেস্কে বসে দীর্ঘ সময় কাজ করা অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। অফিসে প্রবেশের পর মিটিং, ই-মেইল, বিভিন্ন দায়িত্ব ও ডেডলাইন সামলাতে সামলাতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে কেটে যায়, তা অনেকেই খেয়াল করেন না। কিন্তু দিনের শেষে ঘাড়, পিঠ বা কোমরে ব্যথা অনুভব করলে তখনই বোঝা যায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার প্রভাব।
অর্থোপেডিক সার্জন ডা. নাভিন পি. রেড্ডি জানিয়েছেন, সমস্যা শুধু দীর্ঘ সময় বসে থাকা নয়, বরং বিরতি ছাড়া একই অবস্থানে বসে থাকাই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তার ভাষ্য, এ কারণে ঘাড় ও কোমরের ব্যথা, পিঠে অস্বস্তি, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ভুল অঙ্গবিন্যাসজনিত নানা সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। নিয়মিত এমন রোগী তার কাছে আসেন, যাদের শারীরিক সমস্যার অন্যতম কারণ দীর্ঘক্ষণ একইভাবে বসে কাজ করা।
দিনে কতক্ষণ বসে থাকা নিরাপদ—এমন প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বসে থাকলে পেশি, হাড় ও জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিন্তু মোট সময়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটানা না নড়ে একই ভঙ্গিতে বসে থাকা। এতে ঘাড়, মেরুদণ্ড, কোমর, জয়েন্ট ও আশপাশের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
এই ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. রেড্ডি। তার মতে, প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর অন্তত ১ থেকে ২ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা, কাঁধ ও ঘাড় নড়ানো কিংবা শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত। প্রয়োজনে ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সহকর্মীর কাছে হেঁটে যাওয়া বা ডেস্কের পাশেই কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করাও উপকারী হতে পারে। এসব ছোট ছোট বিরতি মেরুদণ্ড ও পেশির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া সঠিকভাবে বসার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, কম্পিউটারের মনিটর চোখের সমান উচ্চতায় রাখতে হবে, দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখতে হবে এবং কুঁজো হয়ে বসা এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি সময়ে সময়েই বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করার অভ্যাস গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
ডা. নাভিন পি. রেড্ডির মতে, মানুষের শরীর দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত নড়াচড়া, ছোট ছোট বিরতি এবং সঠিক অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখার মাধ্যমে ঘাড়, পিঠ ও কোমরের নানা সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments