নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড সদ্য বিদায়ী বছরে কোনো অর্থ আয় করতে পারেনি। গত কয়েক বছর ধরে খুরে খুরে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবসায়িকভাবে দুর্বলতার চরম শিকরে পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির খরচ বাবদ বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা তছরুপ করছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড। ফলে কি হচ্ছে সামিট অ্যালায়েন্সে? এই প্রশ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের মনে বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালনা ব্যয় কাগজে-কলমে কোটি কোটি টাকা দেখাচ্ছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আদৌ সেই অর্থ ব্যয় হচ্ছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ করে বলেন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের নামে দেখানো পরিচালনা ব্যয় সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড আত্মসাৎ করছে এবং প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।
এই ব্যাপারে জানতে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) রতন কুমার নাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কথা বলতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এছাড়ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যওহের রিজভীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল সিঙ্গাপুরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনস এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং কোম্পানিগুলির আঞ্চলিক এবং প্রধান কার্যালয়গুলির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা। এছাড়াও চট্টগ্রাম, মুক্তারপুর এবং কলকাতায় কোম্পানির সুবিধাসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের বন্দর এবং গুদাম সরঞ্জামের উৎসে সহায়তা করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যাত্রা শুরুর কয়েক বছর যেতে না যেতেই কোম্পানিটির ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
(সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)

সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মো. আব্দুল্লাহ্ ওসমান সাজিদ এ ব্যাপারে ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। কোম্পানিটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এই কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করা হবে সেব্যাপারে কোনো দিক নির্দেশনা দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে জানা গেছে, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডে জমি কেনা বাবদ ২ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা অগ্রিম প্রদান করে ব্যবহার করছে। কিন্তু জমিটির এখনো নামজারি বা রেজিস্ট্রেশন করেনি প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি এমন অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে জমির এখনো নামজারি বা রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি কোম্পানি, জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ্ ওসমান সাজিদ।

আব্দুল্লাহ ওসমান সাজিদ আরও বলেন, এই জমির যারা মালিক তারা সম্ভাবত দেশের বাহিরে। যেকারণে নামজারি বা রেজিস্ট্রেশন করা যায়নি।
তবে আদৌ জমির মালিক দেশের বাহিরে রয়েছেন কিনা? নাকি অন্য কোনো বিষয় এখানে রয়েছে? তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত বলে মনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড গ্রাচুইটি বাবদ ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ২৪ হাজার ১৬৯ টাকা রেখেছে। কিন্তু কোম্পানিটির আইএএস ১৯ (IAS 19) অনুযায়ী একচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে এই গ্রাচুইটি রাখা উচিত ছিল। কিন্তু সেটি করেনি কোম্পানিটি। ফলে যে গ্রাচুইটি রেখেছে তা সঠিক হয়নি এবং আইএএস ১৯ এর সাথে সাংঘর্ষিক।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এস আলম কোল্ড রোল মিলস লিমিটেড, পাওয়ার গ্রিড লিমিটেড ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কো. লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু এসমস্ত কোম্পানিগুলো থেকে বছর শেষে কোনো ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) পায়নি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ম্যানেজমেন্ট পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। যদি ম্যানেজম্যান্ট দক্ষ হতো, তবে এই ধরনের নিম্নমানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতো না, যেগুলো বছর শেষে ডিভিডেন্ড দিতে অক্ষম।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সভাপতি মিজান উর রশীদ চৌধুরী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মুনাফা বা লোকসান হওয়া কোনো বিষয় নয়। মূলত এই কোম্পানিটির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এব্যাপারে তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ২৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা; যেখানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৫৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিযোগকারীদের মালিকানা রয়ছে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
























Recent Comments