ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মিলারের ব্যাটের ছোঁয়ায় কাভার অঞ্চল দিয়ে বল সীমানা পার হতেই সবার আগে দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বিপিএল ট্রফি বলে কথা! সে সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজেরও প্রথম। আর ফরচুন বরিশালের তো অবশ্যই প্রথম। এই সবার সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে এসেছিলেন তামিম ইকবাল। সাকিব আল হাসান দু’বারের প্রচেষ্টায় বরিশালবাসীকে যা দিতে পারেননি, তামিম এবার ঠিকই কাঙ্ক্ষিত সেই বিপিএল ট্রফি এনে দিলেন দক্ষিণের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। সে সঙ্গে দুই বছর আগের ফাইনালে ১ রানে হারের প্রতিশোধও নিল বরিশাল। প্লে-অফের আগের দুই ম্যাচের মতো ফাইনালেও টসে জেতেন তামিম। আর এবারের আসরে টস জয় মানেই তো ম্যাচ জয়! টসে হেরে ৬ উইকেটে ১৫৪ রান করে কুমিল্লা। জবাব দিতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় বরিশাল।

তামিম কেবল টসেই জেতেননি, ওপেন করতে নেমেও ঝড় তুলেছিলেন। মিরাজের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৮ ওভারে ৭৬ রান তুলে ম্যাচ অনেকটা বরিশালের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি। ২৬ বলে ৩৯ রান করে মইন আলির বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তামিম। মইনের পরের ওভারে মিরাজও আউট হয়ে যান। এর পর বরিশালের হাল ধরেন কাইল মায়ার্স। ক্যারিবিয়ান এ তারকা ৩০ বলে ৪৬ রান করে বরিশালকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
তবে মুস্তাফিজ এক ওভারে মায়ার্স ও মুশফিককে আউট করে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ও ডেভিড মিলার ঠান্ডা মাথায় জয় নিশ্চিত করেন। ফরচুন বরিশালের জয়ের পেছনে কুমিল্লার বাজে ফিল্ডিংয়েরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বেশ কয়েকটি ক্যাচ ফেলেছে তারা, অসংখ্য গ্রাউন্ড ফিল্ডিং মিস হয়েছে। মইন আলি, জনসন চার্লসের মতো চৌকস ফিল্ডাররা পর্যন্ত ক্যাচ ফেলেছেন।
আসরজুড়েই দাপট ছিল কুমিল্লার ব্যাটারদের। রান সংগ্রাহকদের সেরা তিনের দু’জনই কুমিল্লার। কিন্তু ফাইনালে তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাসদের কেউই জ্বলে উঠতে পারলেন না। দেশি তারকাদের পাশাপাশি বিদেশি মইন আলি, জনসন চার্লসও পারেননি। শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেল জ্বলে ওঠায় দেড়শর ওপরে রান করতে পেরেছে তারা। কিন্তু মিরপুরের পিচে এ পুঁজি নিয়ে লড়াই করা বেশ কঠিন। তবে কুমিল্লার রান আরও একটু বেশি হতে পারত, যদি সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং না করতেন। ১৯তম ওভারে গিয়ে হাত খুলেছিলেন রাসেল। ফুলারের ওই ওভারে তিন ছয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২১ রান। খুনে মেজাজে রাসেলকে দেখে ভড়কে যাননি সাইফউদ্দিন। তবে ওভারের শুরুতে চারটি ওয়াইড-নো দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, ডানহাতি এ পেসার বুঝি ভয় পেয়ে গেছেন। কিন্তু এর পরই চমৎকার নিশানায় বল ফেলেছেন তিনি। দানব রাসেলকে ব্যাট চালানোর সুযোগই দেননি তিনি। তাই তো চারটি ওয়াইড-নোর পরও শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান উঠে।
কুমিল্লার ব্যাটিংয়ের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। এর পেছনে দলটির ম্যানেজমেন্টের দায়ও রয়েছে। ক্রমাগত ব্যর্থতার পরও সুনীল নারিনকে ওপেনিংয়ে নামান তারা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। ওবেদ ম্যাকয় সহজ সে ক্যাচটি ফেলে দিলে পঞ্চম বলে আবার তুলে দেন নারিন। এবার আর মিস করেননি ম্যাকয়, ঝাঁপিয়ে পড়ে কঠিন ক্যাচটি ঠিকই লুফে নেন। প্রথম ওভারে উইকেট পড়লেও কুমিল্লার রানের গতিতে ভাটা পড়েনি। তারা আসল ধাক্কাটা খায় চতুর্থ ওভারে দুরন্ত ফর্মে থাকা তাওহিদ হৃদয় আউট হলে। জেমস ফুলারের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে থার্ডম্যানে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়েন হৃদয়। ফুলারের পরের ওভারে ঠিক একইভাবে মাহমুদউল্লাকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে আসেন লিটনও। শুরুতেই দুই সেরা ব্যাটারকে হারিয়ে বিছুটা চাপে পড়ে যায় কুমিল্লা। জনসন চার্লস ও মইন আলি দলকে সেই চাপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বরং তরুণ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন কিছুটা হাল ধরেছিলেন। ৩৫ বলে ৩৮ রান করে মাহিদুল আউট হওয়ার পর উইকেটে যান রাসেল। ১৪ বলে ৪ ছক্কায় ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কুমিল্লার দেশি পাওয়ার হিটার জাকের আলীও গতকাল মারতে পারেননি। ২৩ বলে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.





























Recent Comments