ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবারের পর অনেকেই কোল্ড ড্রিংকস পান করেন। কারও ধারণা, কোমল পানীয় খেলে পেট হালকা হয় এবং গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির অস্বস্তি কমে। আবার কেউ কেউ সফট ড্রিংকস খাওয়ার পর বড় ঢেকুর ওঠাকে অ্যাসিডিটি কমার লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কী?
কোমল পানীয় পান করার পর ঢেকুর ওঠা মূলত পানীয়তে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কারণে। এই গ্যাস পাকস্থলীতে জমে পরে ঢেকুরের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।
তাই সফট ড্রিংকস খাওয়ার পর ঢেকুর উঠলেই পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। বরং কারও ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে পেটের চাপ বা ফাঁপাভাব কম মনে হতে পারে।
কোমল পানীয়, বিশেষ করে কার্বনেটেড ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুক জ্বালার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। কার্বনেশন পেট ফাঁপা ও ঢেকুর বাড়াতে পারে, আর ক্যাফেইনও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া অনেক কোমল পানীয়তেই প্রচুর চিনি ও অ্যাসিডিক উপাদান থাকে। ফলে অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালার সমস্যা থাকলে এসব পানীয় নিয়মিত পান করা উপকারী নয়।
তবে সবার শরীরে প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয় উপসর্গ বাড়াতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে নাও করতে পারে।
অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালার সমস্যা হলে প্রথমে নিজের খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া ভালো।
অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভারী খাবার কম খান।একবারে খুব বেশি খাবার না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।খাবারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না; বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা উপকারী।
কোন খাবার বা পানীয় খেলে আপনার সমস্যা বাড়ে, তা লক্ষ্য করুন এবং সেগুলো এড়িয়ে চলুন।পর্যাপ্ত পানি পান করুন।বারবার বা দীর্ঘদিন বুক জ্বালা, টক ঢেকুর, খাবার গিলতে সমস্যা কিংবা অস্বাভাবিক ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোল্ড ড্রিংকস অ্যাসিডিটি কমানোর কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নয়। ঢেকুরের কারণে সাময়িক স্বস্তি মনে হলেও এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে দেয় না। বরং অনেকের ক্ষেত্রে কার্বনেটেড বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুক জ্বালার উপসর্গ বাড়াতে পারে।
তাই খাবারের পর অ্যাসিডিটি কমানোর জন্য কোল্ড ড্রিংকসের ওপর নির্ভর না করাই ভালো।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments