রবিবার, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকগাজা দখল নিয়ে বিরোধ, নেতানিয়াহু কী চাপে
spot_img
spot_img

গাজা দখল নিয়ে বিরোধ, নেতানিয়াহু কী চাপে

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: তীব্র মানবিক সংকটের মাঝেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। ঘোষণা দিয়েছেন সামরিক অভিযান বাড়ানোরও। যেটির নিন্দায় সরব ইসরায়েলের অনেক বাসিন্দাসহ আন্তর্জাতিক মহল। এ অবস্থায় গাজা সিটি দখলে নেতানিয়াহুর সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, গাজার মানুষের ভবিষ্যৎই বা কেমন হবে?

কিছুদিন আগেও নেতানিয়াহু বলেছিলেন তিনি পুরো গাজা দখলে নিতে চান। সবশেষ মন্ত্রীসভার বৈঠকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। এরপর নতুন পরিকল্পনায় শুধু গাজা সিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তেল আবিবের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল বর্তমানে গাজার ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। জাতিসংঘের ধারণা, এর পরিমাণ আরও বেশি- প্রায় ৮৬ শতাংশ।

দখল নিয়ে বিরোধ-

ইসরায়েলের গাজা উপত্যকা দখলের পরিকল্পনা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সরকারের এবং দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও নতুন ফাটলের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান বলছে, গোপন তথ্য ফাঁস ও প্রকাশ্য সমালোচনা দেশটির রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের মধ্যকার ফাটল স্পষ্ট করেছে। দেশটির ওপেন ইউনিভার্সিটির সিভিল-মিলিটারি রিলেশনস স্টাডি ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক ইয়াগিল লেভি বলেন, ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর থেকে রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে এটাই সবচেয়ে গুরুতর সংকট।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকের সাতদিন আগেও সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বারবার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজা দখল করলে ইসরায়েলে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। এছাড়া জিম্মিদের মুক্ত করা না গেলে দেশ একটি ‘কালো গহ্বরে’ পড়ে যাবে।

জামিরের এই বিরোধিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তোলে। নেতানিয়াহুর ছেলে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ তোলেন। অধ্যাপক ইয়াগিল লেভি বলছেন, সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে বিরোধ জনবিক্ষোভ আরও তীব্র করতে পারে। জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারলে সরকার জনসমর্থনও হারাবে।

আগেও দখলে নিয়েছিল-

গাজা উপত্যকা প্রথমবার ইসরায়েলের দখলে যায় ১৭৬৭ সালে ‘ছয়দিনের যুদ্ধের’ মাধ্যমে। এই যুদ্ধ হয়েছিল ইসরায়েল, মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে। যেখানে বিজয়ী হয়ে ইসরায়েল বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নেয়। এর মধ্যে ছিল জেরুজালেমের পুরাতন শহর, সিনাই উপদ্বীপ, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমি।

সে সময়ও গাজা দখল নিয়ে ইসরায়েলের প্রশাসনের বিভক্তি ছিল। দ্য কনভারসেশন বলছে, দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের মেজর জেনারেল ইয়েশায়াহু গাভিশ সেনাদের গাজা দখলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর বিরোধীতা করেছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে দায়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, সমস্যায় জর্জরিত একটি এলাকা দখল করা হবে ‘বোলতার বাসায় হাত দেওয়ার’ মতো।

২০০৫ সালের মধ্যে গাজা উপত্যকায় ২১টি বেসামরিক বসতি গড়ে ওঠে। যেখানে ইসরায়েলি ছিলেন প্রায় ৮ হাজার ৬০০ জন। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ২০০০ সালে, দ্বিতীয় ইনতিফাদা (বিদ্রোহ) দিয়ে। ২০০৪ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন বসতি সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। যা শেষ হয় ২০০৫ সালে।

দখলের পরিকল্পনা যেমন-

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেবে। ইসরায়েলি হামলায় শহরটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিবিসি বলেছে, গাজা সিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটা হতে পারে গাজা উপত্যকা দখলের প্রথম ধাপ। জল্পনা আছে, এমন হুমকি হামাসকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর একটি কৌশলের অংশ।

গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে নেতানিয়াহুও যুদ্ধ বন্ধে ৫টি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে আছে, গাজাকে হামাসের কাছে থেকে মুক্ত করা। এর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের হাতে। সেখানে যে প্রশাসন থাকবে সেটি হবে বেসামরিক। এবং ভবিষ্যতে ‘সন্ত্রাসী’ অনুপ্রবেশ রোধে গাজার ইসরায়েল সীমান্তে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে গতকাল ওই সংবাদ সম্মেলন করেন নেতানিয়াহু। এতে তিনি পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। বলেছেন, গাজা দখল নয়, হামাসের থেকে মুক্ত করতে চায় ইসরায়েল। কিন্তু এ সংক্রান্ত যে পাঁচটি লক্ষ্য তিনি তুলে ধরেছেন তা বাস্তবায়তি হলে গাজার ওপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই প্রতিষ্ঠা পাবে।

বাস্তবায়ন শুরু কবে-

ইসরায়েল এখনো জানায়নি কবে গাজা সিটি দখল শুরু হবে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী শুরুতেই শহরে প্রবেশ করবে না। প্রথমে বাসিন্দাদের সরানো হবে।

নেতানিয়াহু পাঁচ লক্ষ্যের একটিতে বলেছেন, গাজায় এমন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠন করা হবে, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাইবে। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস দ্যুসে বলছেন, কোনো আরব বাহিনী গাজা শাসন করতে পারে। এ সংক্রান্ত যে বক্তব্য নেতানিয়াহু দিচ্ছেন তা তিনি ইচ্ছা করেই অস্পষ্ট রাখছেন। তিনি হয়তো জর্ডান ও মিশরের কথা ভাবছেন। কারণ এ দুটি দেশ আগে বলেছিল তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। পরে আরও বলেছে, ইসরায়েলি দখলের পরে তারা আর গাজায় প্রবেশ করবে না। ফলে এখানে বেশ অস্পষ্টতা আছে।

দ্য কনভারসেশনের নিবন্ধ অনুযায়ী, এরই মধ্যে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনে ছোট ছোট চৌকি গড়ে তুলছে। এসব চৌকি দিনে দিনে পূর্ণাঙ্গ বসতিতে পরিণত হচ্ছে। যেসব পরিবার বসবাস শুরু করেছে তারা কেউ এসেছে জায়নবাদী মতাদর্শ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে, কেউ আবার সস্তা সম্পত্তির লোভে।

হামাস কী বলছে-

হামাস সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের উত্তেজনা বাড়ানোর এমন সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এমন সিদ্ধান্ত গাজায় থাকা জিম্মিদের বলি দেওয়ার সমতুল্য। এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, নেতানিয়াহু সরকারের এমন ঘোষণা স্পষ্ট করে- তারা জিম্মিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না।

ইসরায়েলের দখলের পরিকল্পনাকে বিনাশের নতুন অধ্যায় বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ গ্রুপ। এমন পরিস্থিতির জন্য তারা আরব দেশগুলোর সরকার ও পশ্চিমাদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে।

আর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েলের এমন সিদ্ধান্ত গাজায় আরও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments