ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজরদারি জোরদারসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞার সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন জেলার সব বরফকল বন্ধ থাকবে। নদীতে কোনো ধরনের ড্রেজার মেশিনও চলতে দেওয়া হবে না। চাঁদপুরের বাইরে থেকে আসা জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারেন, সেজন্যও বিশেষ নজরদারি করা হবে।
তিনি জানান, অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে চেকপোস্ট বসানো হবে। অভিযানের সময় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত থাকবে।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামা এবং মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকা জেলেদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুরের ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলে এ সহায়তা পাবেন। একই সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপের মধ্যে না পড়েন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর, খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত, নদীপথে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ মাছ ধরা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও জেলেদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

































Recent Comments